kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

ভারতে ভয়াবহতার তিন কারণ জানাল ডাব্লিউএইচও

সরকারের ভূমিকা ক্ষমার অযোগ্য : ল্যানসেট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে ভয়াবহতার তিন কারণ জানাল ডাব্লিউএইচও

ভারতে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতার সুনির্দিষ্ট তিনটি কারণ শনাক্ত করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন। তাঁর মতে, করোনাভাইরাস আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠার বিষয় তো আছেই, সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে জনসাধারণের উদাসীনতা এবং টিকা প্রদানে ধীর গতিও কম দায়ী নয়। এদিকে ভারতের বর্তমান মহামারি পরিস্থিতির জন্য সরকারের ভূমিকাকেও সমানভাবে দায়ী করেছে চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট।

গতকাল রবিবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে চার লাখ তিন হাজার ৭৩৮ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং একই সময় চার হাজার ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভারতে এক সপ্তাহের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো এক দিনে চার লাখের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চার হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা দুই কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৪ জনে দাঁড়িয়েছে, আর মোট মৃত্যু দুই লাখ ৪২ হাজার ৩৬২।

ভারতের মহামারি পরিস্থিতির উত্তরোত্তর অবনতির কারণগুলো এএফপির কাছে তুলে ধরতে গিয়ে ডাব্লিউএইচওর প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য বলেন, ‘ভারতে করোনার যে ধরন সক্রিয় সেটি হলো বি.১.৬১৭। এটি ক্রমাগত চরিত্র বদলাচ্ছে। ফলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা আরো বাড়ছে। শুধু তা-ই নয়, আগামী দিনে অ্যান্টিবডিরোধক হয়ে উঠতে পারে এই ভাইরাস। অর্থাৎ টিকা বা অন্যান্য কারণে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলেও এই ভাইরাস রোখা মুশকিল হতে পারে। তাই এখনই সতর্ক হতে হবে।’

শুধু ভাইরাসের ক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, মানুষের সচেতনতার অভাবও ভারতে ব্যাপক সংক্রমণের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সৌম্য। তিনি বলেন, ‘ভারতে জমায়েত বেড়ে গিয়েছিল। মানুষের মাস্ক পরার ও করোনাবিধি মেনে চলার প্রবণতাও কমে গিয়েছিল। ফলে প্রথমে নিচের স্তরে অনেক দিন ধরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ধীরে ধীরে সংক্রমণ উল্লম্বভাবে বাড়তে শুরু করেছে।’ এভাবে চললে একটা সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এই ভারতীয় বিজ্ঞানী।

ভারতে টিকাকরণের ধীর গতিকেও দায়ী করেছেন সৌম্য। তাঁর মতে, ভারতে এখন পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বছর গড়িয়ে যাবে সবাইকে টিকা দিতে। তত দিনে ভাইরাসটি ধরন পাল্টে ফেলবে। তখন আর বর্তমান টিকার কার্যকারিতা থাকবে না।

সরকারের তীব্র সমালোচনায় ল্যানসেট : সাময়িকীটি তাদের সম্পাদকীয় বিভাগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সমালোচনা করে লিখেছে, ‘বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সরকার ধর্মীয় উৎসব পালন এবং রাজনৈতিক সভার মতো অতি সংক্রামক অনুষ্ঠান হতে দিয়েছে। এই ধরনের অতি সংক্রামক অনুষ্ঠানই বিপদ ডেকে এনেছে ভারতে। সমালোচকদের মুখ বন্ধ করিয়ে দেওয়া এবং খোলা মনে পরামর্শ নিতে না চাওয়ার সরকারি মনোভাবই সংকট বাড়িয়েছে, যা কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না।’

ল্যানসেটের দাবি, ‘ভারত সরকার করোনা মোকাবেলার জন্য প্রথম পর্যায়ে যে টাস্কফোর্স তৈরি করেছিল, এপ্রিলের আগে বেশ কয়েক মাস যাবৎ তারা কোনো বৈঠকই করেনি।’ বর্তমান পরিস্থিতি মোদি সরকারের ‘নিজের তৈরি সংকট’ মন্তব্য করে ল্যানসেট লিখেছে, ‘চাইলে এই বিপদ এড়ানো যেত, কিন্তু মোদি সরকারের ভুল স্বীকার করতে না চাওয়ার মনোভাবই সমস্যা বাড়িয়েছে।’

সূত্র : এএফপি, আনন্দবাজার পত্রিকা।