kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

আরো মার্কিন যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরো মার্কিন যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানে

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সেখানে আরো যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার পেন্টাগন এ তথ্য জানায়। মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ, যদিও তাদের ওপর সম্প্রতি কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব লয়েড অস্টিন জানান, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু এক সপ্তাহও হয়নি। সব পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও দেশটিতে মার্কিন সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

পেন্টাগনের জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান মার্ক মিলি জানান, সেনা প্রত্যাহারের সময় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং তাঁদের নিরাপত্তা দিতে ছয়টি বি-৫২ দূরপাল্লার বোমারু বিমান ও ১২টি এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আফগান সরকারের বিরুদ্ধে তালেবান সন্ত্রাসীরা প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১০০টি হামলা করছে। তবে ১ মে সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর মার্কিন বাহিনীর ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।’ মিলি জোর দিয়ে বলেন, ‘মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবানরা আফগান সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা দখল করে নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। এর মানে এই না যে তাতে আফগান বাহিনী অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। আফগান নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান সরকার এই সময়ে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উভয়কেই সমর্থনের ইচ্ছা পোষণ করেছেন।’

মিলি আরো জানান, মার্কিন বিমানবাহিনী কিভাবে আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের ইতিবাচক সহায়তা অব্যাহত রাখতে পারে, সে বিষয়ে আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মিলি জানান।

অস্টিন ও মিলি জানান, যদিও আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে, সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্কে কিছুটা ছন্দঃপতন ঘটতে পারে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে তালেবান হামলার পর থেকে তালেবান জঙ্গিগোষ্ঠী দমনে কঠোর অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে প্রায় ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা মোতায়েন করে রাখা হয়।

দীর্ঘ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে গত বছর ২৯ ফেব্রুয়ারি তালেবানদের সঙ্গে চুক্তি করে মার্কিন প্রশাসন। তাতে বলা হয়, আফগানিস্তানে তালেবানরা সহিংসতা কমাবে, দেশের সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছবে এবং দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে সব বিদেশি সেনা। ওই চুক্তি অনুসারে গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে অবশিষ্ট আড়াই হাজার সেনা ও ১৬ হাজার বেসামরিক ঠিকাদারকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দেন। অথচ চুক্তি অনুসারে আফগানিস্তানে সহিংসতা হ্রাস কিংবা সরকার-তালেবান সমঝোতা কোনোটিই হয়নি। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা