kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

দুই হাজার শরণার্থী হত্যার দায় ইইউর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রায় ৪০ হাজার শরণার্থীর ইউরোপে প্রবেশ আটকাতে ভয়াবহ কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যভুক্ত দেশগুলো। করোনা মহামারির এই সময়ে এ ধরনের পদক্ষেপ দুই হাজারেরও বেশি শরণার্থীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গার্ডিয়ান জানায়, গত কয়েক দশকের মধ্যে এটা অন্যতম বড় শরণার্থী বিতাড়ণের ঘটনা। ইইউর সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সমর্থনে ইইউভুক্ত দেশগুলো এসব শরণার্থীকে কৌশলে ফেরত পাঠিয়েছে, যাদের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে পালিয়ে আসা শিশুরাও ছিল।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে গার্ডিয়ান এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার বরাতে জানা যায়, কভিড-১৯ মহামারির এ সময়ে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর এই ভয়াবহ ঘটনা আরো বেড়ে গেছে।  

পালারমো বিশ্ববিদ্যালয়ের শরণার্থী আইনবিষয়ক অধ্যাপক এবং ইতালির অন্যতম মানবাধিকার ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ফালভিও ভাসেলো পালেওলোগো বলেন, ‘সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে দেখা গেছে, ইউরোপে পাড়ি দিতে চেষ্টা করা শরণার্থীদের মৃত্যুসংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ইইউভুক্ত ও লিবিয়ার মতো ইইউর বাইরের দেশগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে যোগসাজশ বেড়েছে। শরণার্থীদের উদ্ধারকাজে লিবিয়া এর আগে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল।’

এমন সময় গার্ডিয়ানের এ বিশ্লেষণধর্মী তথ্য সামনে এলো, যখন ফ্রন্টেক্সের বিরুদ্ধে ইইউর পর্যবেক্ষণ সংস্থা ওলাফ একটি অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইইউ সমুদ্রসীমায় শরণার্থীদের আগমন ঠেকাতে তাদের প্রতি হয়রানি, অসদাচরণ ও বেআইনি কর্মকাণ্ড করার অভিযোগ রয়েছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য মতে, গত বছর প্রায় এক লাখ শরণার্থী জল ও স্থলপথে ইউরোপে পৌঁছেছিল। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩০ হাজার। গত বছরের জানুয়ারি থেকে ইতালি, মাল্টা, গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া ও স্পেন তাদের অভিবাসন নীতিমালায় কঠোর অবস্থান নেয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার রুখতে এসব দেশ তাদের সীমান্ত আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা