kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

ইউক্রেনকে বাইডেনের বার্তা

রাশিয়ার ‘হঠকারিতা’ ঠেকাতে পাশে আছি

এ বছর ইউক্রেনকে ৪০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিয়ার বেপরোয়া কিংবা হঠকারিতা প্রতিহত করতে ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। একই সঙ্গে আগ্রাসী মনোভাব পরিহার করতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউক্রেন সফরে গিয়ে বাইডেন প্রশাসনের এই বার্তা তুলে ধরেন তিনি।

গত মাসে ইউক্রেন সীমান্তে এক লাখ সেনা মোতায়েন করে রাশিয়া। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া ছিনিয়ে নেওয়ার পর এটাই ছিল রুশ সেনা মোতায়েনের সবচেয়ে বড় ঘটনা। এর মধ্যে গতকাল এক দিনের সফরে ইউক্রেনে যান ব্লিনকেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার এটাই প্রথম ইউক্রেন সফর।

গতকাল সকালে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবার সঙ্গে বৈঠক করেন ব্লিনকেন। বৈঠকে তিনি কুলেবাকে বলেন, ‘খুবই সাধারণ একটা কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রতিনিধি হিসেবে আমি এখানে এসেছি। ইউক্রেনের সঙ্গে আমাদের অংশীদারি, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করাই আমার সফরের একমাত্র উদ্দেশ্য।’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের গণতন্ত্র, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

প্রতিক্রিয়ায় কুলেবা বলেন, ‘আমরা আপনাদের এই সহযোগিতার প্রশংসা করছি। আমরা আগেও রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পেয়েছি।’ উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে ইউক্রেনকে ৪০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানি যে রাশিয়া এরই মধ্যে কিছু সেনা সীমান্ত থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এখনো তাদের অনেক সেনা সেখানে রয়েছে, কিন্তু ইউক্রেন যে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষার সক্ষমতা রাখে, সেটা নিশ্চিত করতে আমরা আপনাদের সঙ্গে কাজ করব।’ বৈঠকে ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন এখনো রাশিয়ার সামরিক হুমকির মধ্যে রয়েছে।’

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে সরকারি সেনাদের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াইয়ের তীব্রতা গত জানুয়ারি থেকে বেড়ে যায়। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এটাই এখন একমাত্র সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ইউক্রেন সীমান্তে সেনা মোতায়েনের কয়েক দিন পরেই অনেক সেনা প্রত্যাহার করে নেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুতিন হয়তো জো বাইডেনের মনোভাব পরীক্ষা করে দেখার জন্য সেনা মোতায়েন করেছিলেন। আবার ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করাও তাঁর একটা উদ্দেশ্য।

সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা