kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

ভারতে শনাক্ত-মৃত্যু ফের ঊর্ধ্বমুখী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে শনাক্ত-মৃত্যু ফের ঊর্ধ্বমুখী

দিন যতই গড়াচ্ছে, ভারতের করোনা পরিস্থিতি ততই জটিল হচ্ছে। দুই-তিন দিন সংক্রমণ কমে ফের নতুন রেকর্ড হয়েছে; নথিবদ্ধ হয়েছে সর্বাধিক প্রাণহানির সংখ্যাও। করোনার ‘ডাবল মিউট্যান্ট’ ধরনের কারণে দ্বিতীয় ঢেউয়ে সেখানে প্রাণহানি বেড়েছে বলে জানানো হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটির একজন শীর্ষ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ অবশ্যম্ভাবী।

বিশ্বে প্রতিদিন যত মানুষ করোনা সংক্রমিত হচ্ছে, তার প্রায় অর্ধেকই এখন হচ্ছে ভারতে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে চার লাখ ১২ হাজার ২৬২ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এক দিনে এত বেশি শনাক্তের ঘটনা এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ। গত ১ মে সেখানে দৈনিক সংক্রমণ প্রথমবারের জন্য চার লাখ ছাড়িয়েছিল।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে সরকারি হিসাবেই এখন পর্যন্ত দুই কোটি ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৪১০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যদিও আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ দৈনিক আক্রান্তের পাশাপাশি বাড়িয়েছে দৈনিক মৃতের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ৯৮০ জনের। এক দিনে মৃত্যুর নিরিখে এই সংখ্যা ভারতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ৯ দিন ধরে দৈনিক মৃত্যু তিন হাজারের বেশি থাকছে। এভাবে বাড়তে বাড়তে সরকারি হিসাবেই মোট মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। যদিও মৃতের প্রকৃত সংখ্যা লুকানোর জোরালো অভিযোগ আছে।

এই পরিস্থিতিতে করোনার টিকাদান কর্মসূচিও চলছে। গত এক সপ্তাহে টিকা পেয়েছে খুব কমসংখ্যক মানুষ। যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যাটা কিছুটা বেড়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২০ লাখ ১৯ হাজার ১৫১ জন টিকা পেয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে ১৬ কোটি ২৫ লাখেরও বেশি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত জানিয়েছে গত মার্চ মাসে করোনাভাইরাসের যে ‘ডাবল মিউট্যান্ট’ ধরনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, সেটির কারণেই দেশটিতে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ অনেক বেশি প্রাণঘাতী হয়েছে। বি.১.৬১৭ ভেরিয়েন্ট ভারতের কয়েকটি রাজ্যে অনেক বেশি সংখ্যায় পাওয়া গেছে।

তবে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডাবল মিউট্যান্টের সঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সম্পর্ক পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

একটি ভাইরাসের মধ্যে যখন দুই ধরনের পরিবর্তন একত্রে মিলিত হয়, তখন সেটিকে ডাবল মিউট্যান্ট বলা হয়।

ভারতের অন্যতম শীর্ষ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিজয় রাঘবন স্বীকার করেছেন যে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ এতটা ভয়ংকর হবে, সেটি বিশেষজ্ঞরা অনুমান করতে পারেননি। ভাইরাস বেশি মাত্রায় সংক্রমিত হওয়ার ফলে তৃতীয় ঢেউ অবশ্যম্ভাবী। তবে তৃতীয় ঢেউ কখন আসতে পারে সে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভারতে ১৩ হাজার নমুনা সিকোয়েন্স করে আটটি রাজ্যে সাড়ে তিন হাজারের বেশি নমুনায় উদ্বেগজনক ডাবল মিউট্যান্ট ধরন পাওয়া গেছে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



সাতদিনের সেরা