kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

সংক্ষিপ্ত

হারের পাঁচ কারণ দেখছে গেরুয়া শিবির

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গেরুয়া শিবিরের অনেক আশা ছিল, এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। শুধু বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতারাই নয়, গোটা সঙ্ঘ পরিবার অনেকটাই নিশ্চিত ছিল জয় নিয়ে। অনেক হিসাব-নিকাশ, অনেক পরিকল্পনা করা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফলের কাছাকাছিও যেতে পারেনি পদ্মের ফল। ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরে কেন এমন হলো, তা নিয়ে দলের অন্দরে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। আর তাতে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি কারণ দেখছেন রাজ্য নেতারা :

এক. মুখের অভাব। রাজ্য বিজেপি নেতারা প্রচার পর্বে অনেক পরিশ্রম করলেও কোনো মুখ তুলে ধরতে পারেননি। এই সিদ্ধান্ত ছিল বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা বারবার বাংলার ‘ভূমিপুত্র’ই মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে জানালেও আলাদা করে কারো নাম বলেননি। অন্যদিকে তৃণমূলের মুখ ছিলেন ১০ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকা লড়াকু নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বাংলার মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দুই. বাংলার কোনো নেতাকে মুখ হিসেবে তুলে না ধরার জন্য নীলবাড়ির লড়াইয়ে বড় বেশি নির্ভরতা ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর। আর সেই নির্ভরতাকে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে আক্রমণ শাণিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি প্রাথমিকভাবে মনে করছে, মমতাসহ তৃণমূলের এই আক্রমণকেই সমর্থন দিয়েছে বাংলার মানুষ।

তিন. রাজ্য বিজেপি আরো একটি কারণকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দলের বক্তব্য, ২০১৬ সালে বিজেপি রাজ্যে মাত্র তিনটি আসনে জিতেছিল। সেখান থেকে একেবারে ক্ষমতায় আসার যে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল, তা দলের অভিজ্ঞতার তুলনায় অনেকটাই বেশি। লোকসভা নির্বাচনের ফলকে বিধানসভা ভোটের ক্ষেত্রেও প্রাধান্য দেওয়া ঠিক হয়নি। তাই এই হারকে বড় মনে হচ্ছে।

চার. মেরুকরণকে হাতিয়ার করে নীলবাড়ির লড়াইয়ে ফায়দা তুলতে চেয়েছিল বিজেপি। প্রচার পর্বে অনেক ক্ষেত্রেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের অভিযোগ তুলতে কড়া ভাষা প্রয়োগ করেছেন নেতারা। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে, এর ফলে মুসলিম ভোট একাট্টা হলেও হিন্দু ভোটের বেশির ভাগ ঝুলিতে টানা যায়নি।

পাঁচ. বিজেপিতে ‘আদি ও নব্য’ বিবাদ অনেক দিনের। গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই অভিযোগ নিয়ে দলের মধ্যে অনেক গোলযোগ হয়েছে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে তৃণমূল থেকে যাঁরা এসেছেন তাঁদের প্রাধান্য দেওয়া দলের কর্মী, সমর্থক ও ভোটাররা ভালো চোখে নেননি বলেই মনে করছে বিজেপি।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।



সাতদিনের সেরা