kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

পাকিস্তানে বিলাসবহুল হোটেলে বোমা হামলা

নিহত ৫, আহত ১১

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের বিলাসবহুল একটি হোটেলে তালেবানের গাড়িবোমা হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১১ জন। গত বুধবার রাতে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার হোটেল সেরেনায় এই হামলা হয়। পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত নোং রোং ওই হোটেলে উঠলেও ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।

চীন এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে তালেবান জানিয়েছে, চীনের রাষ্ট্রদূত তাদের নিশানা ছিল না; পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেই তারা এই হামলা চালিয়েছে।

সেরেনা পাঁচতারা মানের একটি হোটেল। বেলুচিস্তান সফরে গেলে বিদেশি কূটনীতিকরা বেশির ভাগ সময় ওই হোটেলেই থাকেন। গত বুধবার সেখানে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন নোং রোং।

হোটেলের প্রহরী খুদা বখশ বলেন, ‘আমি গাড়ি পার্কিং এলাকায় হাঁটাহাঁটি করছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। এরপর জীবন বাঁচাতে এদিক-সেদিক দৌড়াতে থাকে সবাই। আতঙ্কে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম।’

পুলিশ জানিয়েছে, বোমাটি একটি গাড়িতে রাখা ছিল। নিহতদের মধ্যে হোটেল সেরেনার এক কর্মী রয়েছেন।

এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে মূল্যায়ন করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন জানিয়েছেন, চীনের কূটনীতিকরা বিস্ফোরণের সময় হোটেলে ছিলেন না। চীনের গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, যে সময় হামলা হয়েছে, তার ১০ মিনিট পরই চীনা রাষ্ট্রদূতের হোটেলে ফেরার কথা ছিল।

গতকাল হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘হামলার পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেই আমরা বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছি।’

গত বুধবারের হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান টুইটারে টিটিপির উদ্দেশে লিখেছেন, ‘আমরা আর এসব সন্ত্রাসীকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ দেব না। আমরা সজাগ আছি এবং ঘরের কিংবা বাইরের সম্ভাব্য হুমকির প্রতি আমাদের কড়া নজর রয়েছে।’

এর আগে ২০১৯ সালে বেলুচিস্তানে বিলাসবহুল আবাসিক হোটেলে পৃথক দুটি হামলায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়। দুটি হামলার দায় স্বীকার করে নেয় বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি নামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন।

প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হলেও বেলুচিস্তান খুবই দরিদ্র একটি প্রদেশ। সম্প্রতি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে সেখানে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে চীন। কিন্তু এই বিনিয়োগে স্থানীয়রা খুব একটা উপকৃত হয়নি। সেখানে যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, তার বেশির ভাগই বহিরাগতদের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কর্মক্ষেত্রে এই বৈষম্য দূর করতে না পারলে সেখানে সহিংসতা থামানো সম্ভব হবে না বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা