kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে শীর্ষে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে গত বছর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০২০ সালে বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হারে শীর্ষে থাকা প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ হলো ইরান, মিসর, ইরাক ও সৌদি আরব। গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে।

লন্ডনভিত্তিক এই মানবাধিকার সংগঠনটি জানায়, বিশ্বের মোট মৃত্যুদণ্ডের ৮৮ শতাংশ ঘটেছে মধ্যপ্রাচ্যের ওই চারটি দেশে। গত বছর বিশ্বের ১৮টি দেশের মধ্যে মোট ৪৮৩টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম এবং ২০১৫ সালে কার্যকর হওয়া এক হাজার ৬৩৪টির তুলনায় ৭০ শতাংশ কম। গত বছর শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই মোট ৪৩৭টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৫৭৯। ২০১৯ সালে বিশ্বে ৬৫৭টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটে।

অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক হেবা মোরায়েফ বলেন, ‘বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ কভিড-১৯ মহামারির মধ্যে যেখানে মানুষের জীবন বাঁচাতে যুদ্ধ করছে, সেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ঘটনা নির্দয় বিচারব্যবস্থার পরিচায়ক। এ ক্ষেত্রে দেশগুলো তাদের নির্মম ও ঠাণ্ডা জেদের প্রদর্শনী করেছে।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুসারে, গত বছর বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিমাণ এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল। তবে এই হিসাবে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাদের অনুমান, চীন প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে থাকে। তবে ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার’ অজুহাতে এসংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হয় না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব আগের বছরের তুলনায় ৮৫ শতাংশ কম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। গত বছর ২৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি। আর ইরাকে এ হার কমেছে ৫০ শতাংশ। সেখানে গত বছর কার্যকর হওয়া এ সাজার সংখ্যা ছিল ৪৫। এদিকে মিসরে মৃত্যুদণ্ডের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের মোট সংখ্যায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা মিসরে গত বছর ১০৭ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালে ২৪৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। অ্যামনেস্টির মতে, দেশটি ভিন্নমতাবলম্বী, বিক্ষোভকারী ও জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই শাস্তিকে ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা