kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

জাতিসংঘের দাবি

জান্তার অভিযানে বাস্তুচ্যুত আড়াই লাখ মানুষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তা টম অ্যান্ড্রুজ দাবি করেছেন, মিয়ানমারে জান্তার দমন-পীড়নের জেরে দেশটিতে কমপক্ষে আড়াই লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গতকাল বুধবার এক টুইটে তিনি এ কথা বলেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর গণতন্ত্রীদের বিক্ষোভ দমন করতে সেনাবাহিনী যে বর্বরতা চালাচ্ছে, সেই চিত্রও টুইটে তুলে ধরেন অ্যান্ড্রুজ। চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীকে মিয়ানমারের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার আহবান  জানান তিনি। টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘মিয়ানমারে এই মানবিক বিপর্যয়ে বিশ্ববাসীকে অবিলম্বে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হবে।’

মিয়ানমারের স্থানীয় এক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর হিসাবে, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ছাড়া তিন হাজার ৩০০ জনকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে।

একটি খ্রিস্টান সহায়তা গোষ্ঠী জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কারেন রাজ্যে ২৪ হাজার মানুষ আশ্রয়হারা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা সরকার।

কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন ব্রিগেডের মুখপাত্র পাদোহ মান মান জানান, গতকাল দুই হাজার মানুষ মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে থাইল্যান্ডে পালিয়ে গেছে। কয়েক হাজার মানুষ এরই মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বহু মানুষ আশপাশের জঙ্গলে লুকিয়ে আছে।

মিয়ানমারে অব্যাহত সহিংসতার মধ্যেই আগামী শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নেতা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জাকার্তায় আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছেন। এ অঞ্চলের ১০ দেশের জোট আসিয়ানের আসন্ন এই বৈঠকে জান্তা সরকারের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘সেনাশাসক মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর আন্তর্জাতিক অবরোধ রয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর সেনাবাহিনীর বর্বরতার কারণে এ ধরনের আন্ত সরকার আলোচনায় তাকে স্বাগত জানানো উচিত নয়।’

গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর আগ্রাসী তৎপরতাই শুধু নয়, গণমাধ্যমের ওপরও নিরাপত্তা বাহিনী নিপীড়ন চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭০ সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে জান্তা সরকার। তাঁদের মধ্যে ৩৮ জন এখনো কারাগারেই আছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে দেশের ক্ষমতা দখল করে। সেদিন সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে জান্তা। এরপর নির্বাচনে আয়োজন করা হবে বলে জান্তা জানালেও সাধারণ মানুষ তাতে বিশ্বাস করছে না। জান্তার বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন চলছে এবং সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা