kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

‘এখন হয়তো ক্ষত খানিকটা শুকাবে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘এখন হয়তো ক্ষত খানিকটা শুকাবে’

আদালতের রায় ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে জর্জ ফ্লয়েডের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিল তাঁর ছয় বছরের মেয়ে জিয়ানা ফ্লয়েড। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে নতুন গতি দিয়েছিল যে হত্যাকাণ্ড, সেই জর্জ ফ্লয়েডের হত্যা মামলার রায় শোনার জন্য আদালতের বাইরে জড়ো হয়েছির কয়েক শ মানুষ। নতুন করে সহিংসতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছিল সেখানে, কিন্তু সৃষ্টি হয় একদম অন্য পরিবেশ।

আসামি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনকে দোষী সাব্যস্ত করার ঘোষণা যখন জনতা শুনল, তখন তাদের মধ্যে যেন বয়ে গেল আনন্দ আর স্বস্তির বাতাস। অনেকের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। সে অশ্রু কষ্টের নয়, যেন জয়ের আনন্দের।

গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে আফ্রিকান আমেরিকান নাগরিক ফ্লয়েড পুলিশ হেফাজতে মারা যান। তাঁর মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে তো বটেই, গোটা বিশ্বে বর্ণবাদবিরোধী এবং পুলিশি নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনে নতুন গতি আনে। তুমুল আন্দোলনের মুখে ফ্লয়েড হত্যার বছর না পেরোতেই এসংক্রান্ত মামলায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হলো। গত মঙ্গলবার মিনিয়াপোলিস আদালত আসামি শভিনকে দোষী সাব্যস্ত করে।

আদালতের বাইরে জড়ো হওয়া মানুষ এই রায় শোনার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ২৮ বছর বয়সী ল্যাভিড ম্যাক বলেন, ‘বিশ্বাসই করতে পারছি না, দোষী।’ শ্বেতাঙ্গ শভিনকে যে সত্যি দোষী সাব্যস্ত করা হতে পারে, সেটা ঘূর্ণাক্ষরেও আগে বিশ্বাস করতে পারেননি ম্যাক।

উপস্থিত এক নারী স্বজনের বুকে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘এখন আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারব।’ গোটা বছরটাই ছিল ভীষণ বেদনার, এমন মন্তব্য করেন তিনি আরো বলেন, ‘আশা করি, এখন ক্ষত খানিকটা শুকাবে।’

অনেকের আবেগ দ্রুত স্লোগানে রূপ নেয়। মুষ্টিবব্ধ হাত আকাশে ছুড়তে ছুড়তে তাঁরা বলেন, ‘ব্ল্যাক পাওয়ার, ব্ল্যাক পাওয়ার।’

ফ্লয়েড হত্যা মামলার শুনানি চলাকালে মিনিয়াপোলিসের পাশাপাশি অন্যান্য শহরে বাড়তি উত্তেজনা দেখা দেয়। গত কয়েক সপ্তাহের ওই উত্তেজিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ঘিরে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। তবে আদালতের বাইরে জড়ো হওয়া জনতাকে ঘিরে গত মঙ্গলবার কোনো সহিংসতা তৈরি হয়নি। সূত্র : এএফপি।