kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

সংক্রমণে কাবু ভারত দিল্লিতে লকডাউন

পরিযায়ী শ্রমিকদেও দিল্লি না ছাড়ার অনুরোধ কেজরিওয়ালের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংক্রমণে কাবু ভারত দিল্লিতে লকডাউন

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রতিবেশী ভারতের পরিস্থিতি ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। সংক্রমণের উল্লম্ফনে বেসামাল দেশটির রাজধানী দিল্লি। এ পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার রাত থেকে এক সপ্তাহের জন্য সেখানে লকডাউন জারি করেছে কেজরিওয়াল সরকার। অন্যদিকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দীর্ঘ ৪০০ দিন পর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বিনা বাধায়, অর্থাৎ কোয়ারেন্টিনমুক্ত বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কভিডে আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ জন, যা রবিবারের থেকে প্রায় ১২ হাজার বেশি। এক দিনে দেশে আক্রান্তের নিরিখেও এই সংখ্যা এখন অবধি সর্বোচ্চ। সংক্রমণের সঙ্গে কভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেড়েছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৬১৯ জনের। এক দিনে মৃত্যুর নিরিখে গোটা করোনা পর্বে যা সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ৬৮ হাজারের বেশি লোক নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্রে। এরপর রয়েছে উত্তর প্রদেশ। সেখানে দৈনিক আক্রান্ত সোমবার সাড়ে ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। রাজধানী দিল্লিতে তা ২৫ হাজারের বেশি; শনাক্তের হার ৩০ শতাংশ। কর্ণাটক ও কেরালায় তা ১৯ হাজার এবং ১৮ হাজারের বেশি।

এদিকে দিল্লি সরকার জানিয়েছে, লকডাউন চলাকালে সরকারি অফিস, জরুরি পরিষেবা, অর্থাৎ খাদ্য ও স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু থাকবে। বেসরকারি অফিসের কর্মচারীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ জন নিমন্ত্রিত নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে তার জন্য আলাদাভাবে পাস নিতে হবে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা যাতে ভেঙে না পড়ে তার জন্য এই ছোট লকডাউন। যেভাবে সংক্রমণ মাত্রা ছাড়াচ্ছে তার জন্য প্রয়োজন এই লকডাউন। এই ছয় দিনের মধ্যে সরকার আরো বেড, আরো ওষুধ ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা করবে।’ একই সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের দিল্লি না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। কেজরিওয়ালের আশ্বাস, সাময়িক পরিস্থিতি সামলাতেই জারি এই সীমিত সময়ের লকডাউন।

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিমান চলাচল শুরু

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বহুপ্রতীক্ষিত ‘ট্রাভেল বাবল’ চালু হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন ভ্রমণকারীরা। কোনো বাধা ছাড়াই দীর্ঘদিন পর পরিবারের কাছে যেতে পারার আনন্দে বিমান বন্দরে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে বাধামুক্ত ভ্রমণ শুরু হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কোয়ারেন্টিমুক্ত ভ্রমণ শুরু করতে পারা সত্যিই আনন্দের। পরিবারের কাছে ফেরা, বন্ধু-বান্ধব বা ছুটি কাটাতে আসা যেই হোক না কেন, নিউজিল্যান্ডে আপনাদের স্বাগত।’

করোনা মহামারি শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল নিউজিল্যান্ডের পর্যটনের বড় উৎস। ২০১৯ সালে তাদের মোট পর্যটকের ৪০ শতাংশ ছিল অস্ট্রেলিয়া থেকে, সংখ্যায় যা প্রায় ১৫ লাখ। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় বাস করে, যা প্রায় দুই কোটি ৬০ লাখ অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার ২ শতাংশ।

দুই দেশের মধ্যে বহু যাত্রী প্রতিনিয়ত চলাচল করে। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক বছরের বেশি সময় ধরে দুই দেশের সীমানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে এই দুটি দেশে কেউ এলে তাদের নিজ খরচে দুই সপ্তাহের বাধ্যতামূলক হোটেল কোয়ারেন্টিনে যেতে হয়। সূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা।



সাতদিনের সেরা