kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

পঞ্চম দফার ভোট

বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, আহত বিজেপির প্রার্থী

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, আহত বিজেপির প্রার্থী

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে গতকাল ভোট দিতে আসা পরিবারের সঙ্গেই ছিল ল্যাপটপে ব্যস্ত এই খুদে শিক্ষার্থী। ভোটকেন্দ্রের বাইরে সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে অনলাইন ক্লাস করতে। কারণ মহামারির কারণে অনলাইনে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ছবি : এএফপি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আট দফার পঞ্চম দফা ভোট হয় গতকাল শনিবার। এদিন রাজ্যে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে আক্রান্ত হন কামারহাটির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতকারীরাই রাজুর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট মেরে তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙে দেয়। এমনকি, বোমাবাজিও করে।

এ ঘটনায় রাজু আহত হয়েছেন বলেও গেরুয়া শিবিরের তরফে দাবি করা হয়েছে। রাজুর ইঙ্গিত, কামারহাটির তৃণমূলের প্রার্থী মদন মিত্রই এই হামলার পেছনে রয়েছেন, যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। গতকালই নির্বাচন কমিশনের কাছে এই হামলার অভিযোগ করেছেন রাজু।

তৃণমূলকে দাঙ্গাবাজ বললেন মোদি : বাংলায় ‘দাঙ্গাবাজ’দের পাশে কে দাঁড়িয়েছে, ‘তোষণ’-এর নীতি কে নিয়েছে, কেন পুলিশ ‘দাঙ্গাবাজ’দের সমর্থন করেছে, রাজ্যে পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণের দিনে এমনভাবেই তৃণমূলকে দাঙ্গার অভিযোগে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মুখ্যমন্ত্রী বরাবর ‘বিজেপি স্বৈরাচারী দাঙ্গাবাজদের দল’ বলে আক্রমণ করেন। নীলবাড়ির লড়াইয়ে প্রচারে এমন কথা অনেকবারই বলতে শোনা গেছে মমতাকে। গতকাল আসানসোলের জনসভা থেকে সেই আক্রমণেরই যেন জবাব দিলেন মোদি।

গতকাল মোদি তাঁর বক্তব্যে তিন বছর আগে আসানসোল-রানীগঞ্জ এলাকায় হওয়া সহিংসতার কথাও মনে করান। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের তিন বছর আগের রামনবমীর কথা মনে আছে? আসানসোল, রানীগঞ্জের দাঙ্গা কে ভুলতে পারে? এসব দাঙ্গায় শত শত মানুষের জীবনের পরিশ্রম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গরিবের হয়েছে। রাস্তায় দোকান লাগানো ছোট ব্যবসায়ীদের হয়েছে।’ এর পরেই তিনটি প্রশ্ন তোলেন মোদি। বারবার সেই প্রশ্নগুলো করে উত্তর চান জনতার কাছ থেকে। মোদি বলেন, ‘দাঙ্গাকারীদের কে সমর্থন দিয়েছিল? তোষণের নীতি কে গ্রহণ করেছে? কার জন্য পুলিশ দাঙ্গাবাজদের পাশে দাঁড়িয়েছে?’ বারবার প্রশ্ন করে জনতার উত্তর শুনে মোদি বলেন, ‘সবার একটা জবাব। সবাই বলছে, দিদির কারণে, দিদির কারণে।’

গতকাল মোদির ভাষণের বেশির ভাগজুড়েই ছিল মমতাকে আক্রমণ। তিনি মমতাকে ‘অহংকারী’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, কেন্দ্রের ডাকা বৈঠকে উনি আসেন না। করোনা পরিস্থিতি সামলাতে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ডাকা বৈঠকে বাকিরা উপস্থিত থাকলেও উনি গরহাজির থাকেন।

৫টা পর্যন্ত ভোট পড়ল ৭৮.৩৬ শতাংশ : গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে ৭৮.৩৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমান—এই ছয় জেলার ৪৫টি কেন্দ্রে এদিন ভোট নেওয়া হয়।

বিকেল ৫টা পর্যন্ত দার্জিলিংয়ে ভোট পড়েছে ৭৪.৬০ শতাংশ। জলপাইগুড়ি ও কালিম্পংয়ে একই সময়ে যথাক্রমে ৮১.৭১ ও ৬৯.৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। নদীয়ায় সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৮১.৫০ শতাংশ।

উত্তর ২৪ পরগনায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭৫.১৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। পূর্ব বর্ধমানে ৮১.৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।