kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

প্রিন্স ফিলিপের ত্যাগ সাহসিকতা স্মরণ শেষকৃত্যে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রিন্স ফিলিপের ত্যাগ সাহসিকতা স্মরণ শেষকৃত্যে

উইন্ডসর ক্যাসেলের সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে প্রিন্স ফিলিপের কফিনের পেছনে রাজপরিবারের সদস্যরা। ছবি : এএফপি

ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হলো রানির প্রতি তাঁর আনুগত্য, যুক্তরাজ্যের জন্য ত্যাগ আর সাহসিকতা। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় উইন্ডসর দুর্গের ভেতর সেন্ট জর্জেস চ্যাপেল নামের গির্জায় এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে এক সপ্তাহের জাতীয় শোক পালন শেষ হলো। তবে রাজপরিবার আরো এক সপ্তাহ ধরে শোক পালন করবে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় তারা কালো পোশাক পরবে।

ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৭৩ বছরের জীবনসঙ্গী, তাঁর স্বামী ডিউক অব এডিনবরা ৯৯ বছর বয়সে গত ৯ এপ্রিল শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে কোনো রাজা বা রানির এত দীর্ঘসময়ের জীবনসঙ্গী আর কেউ ছিলেন না। প্রিন্স ফিলিপ ১৯৪৭ সালে প্রিন্সেস এলিজাবেথকে বিয়ে করেন। এর পাঁচ বছর পর প্রিন্সেস এলিজাবেথ ব্রিটেনের রানি হন।

মৃত্যুর আগে প্রিন্স ফিলিপ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা যেন ন্যূনতম মাত্রায় রাখা হয়। করোনাভাইরাসের কারণে তাঁর মরদেহ সাধারণ জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত করা হয়নি। তবে শেষকৃত্যানুষ্ঠানটি টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ইংল্যান্ডে এখন করোনাভাইরাস মহামারিজনিত যেসব বিধি-নিষেধ জারি রয়েছে এর সঙ্গে সংগতি রেখে এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানে মাত্র ৩০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন রানি এলিজাবেথ ও ডিউক অব এডিনবরার পরিবারের সদস্যরা এবং ডিউক অব এডিনবরার তিনজন জার্মান সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে শেষকৃত্যে যোগ দেন ডিউকের নাতি প্রিন্স হ্যারি।

শেষকৃত্যের শুরুতে ডিউকের মরদেহ উইন্ডসর দুর্গের প্রাইভেট গির্জা থেকে দুর্গের রাষ্ট্রীয় প্রবেশপথে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাঁর মরদেহ একটি জলপাই রঙের ল্যান্ড রোভারে করে নেওয়া হয় দুর্গের ভেতরই সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে। এই বিশেষ ল্যান্ড রোভার গাড়িটিই শববাহী গাড়ি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এই যানটি প্রিন্স ফিলিপ অনেক দিন ব্যবহার করেছেন। শববাহী গাড়ির পেছনে ছিলেন ডিউকের চার সন্তান প্রিন্স চার্লস, অ্যান্ড্রু, এডওয়ার্ড ও প্রিন্সেস অ্যান। আরো ছিলেন ডিউকের দুই নাতি প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারি। সঙ্গে পরিবারের অন্য কিছু সদস্য ও ডিউকের কর্মচারীরা ছিলেন। বিকেল পৌনে ৩টায় মূল শবযাত্রাটি শুরু হয়। এর শুরুতে ছিল গ্রনাডিয়ার গার্ড নামের সামরিক বাদকদল। রানি এলিজাবেথ রাজকীয় বেন্টলি গাড়িতে করে শবযাত্রার পেছনে ছিলেন। এ সময় দুর্গের ভেতর তোপধ্বনি ও গির্জায় ঘণ্টাধ্বনি করা হয়।

ডিউকের মরদেহ তাঁর মর্যাদাসূচক নিজস্ব পতাকা দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল। তাঁর ওপর ছিল পুষ্পস্তবক এবং ডিউকের নৌবাহিনীর টুপি ও তরবারি। সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে শবযাত্রার সঙ্গে মিলিত হন আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবারি, যিনি অ্যাংলিকান চার্চের প্রধান।

মূল অনুষ্ঠানে ছিল ডিউকের স্মরণে যুক্তরাজ্যজুড়ে এক মিনিটের নীরবতা পালন, যা শুরু ও শেষ হবে তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে। এরপর গির্জার ভেতর কফিন নিয়ে একটি মঞ্চের ওপর রাখা হয়। চারজন সংগীতশিল্পীর একটি দল ডিউকের পছন্দের কয়েকটি গান পরিবেশন করে। এরপর গির্জার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ডিউককে সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলের রাজকীয় ভল্টে সমাহিত করা হয়। সূত্র : বিবিসি।