kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

ভারতে ১০ দিনের ব্যবধানে দৈনিক সংক্রমণ দ্বিগুণ

দ. আফ্রিকায় স্থগিত জনসনের টিকা, ডেনমার্কে বাতিল অ্যাস্ট্রাজেনেকা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতে ১০ দিনের ব্যবধানে দৈনিক সংক্রমণ দ্বিগুণ

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে ভারতে। প্রথমবারের মতো গতকাল দেশটিতে আক্রান্ত নথিবদ্ধ হয়েছে দুই লাখ। এর আগে গত ৫ এপ্রিল প্রথমবারের মতো সেখানে শনাক্তসংখ্যা এক লাখ ছাড়ায়। অর্থাৎ মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশে দৈনিক সংক্রমণ দ্বিগুণ হলো।

এদিকে রক্ত জমাট বাঁধার খবরে যুক্তরাষ্ট্রের পর দক্ষিণ আফ্রিকায়ও জনসনের টিকার ব্যবহার স্থগিত করা হয়েছে। একই কারণে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সেখানে শনাক্ত হয়েছে দুই লাখ ৭৩৯ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। সংক্রমণের মতো উল্লম্ফন ঘটেছে মৃত্যুতেও। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে এক হাজার ৩৮ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। এতে করে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার ১২৩। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৮৭৭।

ভারতে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুতে ৮ থেকে ৯ রাজ্যে আবদ্ধ থাকলেও এখন তা বেড়েছে ১৮ থেকে ১৯টিতে। মহারাষ্ট্র সবার শীর্ষে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫৯ হাজার জন আক্রান্ত হয়েছে সেখানে। উত্তর প্রদেশে এই প্রথমবার নতুন আক্রান্ত এক দিনে ২০ হাজার ছাড়াল। রাজধানী দিল্লিতে তা বাড়তে বাড়তে ১৭ হাজার পার করেছে। ছত্তীশগড়ে বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ১৪ হাজারের বেশি। কর্নাটকেও আক্রান্ত ১১ হাজার পেরিয়েছে। মধ্যপ্রদেশ (৯৭২০), কেরালা (৮৭৭৮), তামিলনাড়ু (৭৮১৯), গুজরাট (৭৪১০) ও রাজস্থানে (৬২০০) বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। পশ্চিমবঙ্গেও এ সপ্তাহে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ছয় হাজারের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েছে। হরিয়ানার অবস্থাও একই রকম। বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশে দৈনিক আক্রান্ত চার হাজারের বেশি। পাঞ্জাব, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানায় দৈনিক আক্রান্ত তিন হাজারের বেশি। উত্তরখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মীর এবং ওড়িশাতেও বাড়ছে আক্রান্ত।

বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, ভারতে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক হয়ে উঠলেও কেন্দ্রীয় সরকার যে পূর্ণ লকডাউন জারি করছে না, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এক আলোচনায় তা জানিয়ে দিয়েছেন। তবে যেসব রাজ্যের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ তারা নিজেদের মতো ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। যেমন—মুম্বাইসহ গোটা মহারাষ্ট্রে রাত ৮টা থেকে প্রায় লকডাউনের মতোই নানা বিধি-নিষেধ চালু হয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসের সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সাফ জানিয়েছেন, তাঁর দেশ করোনা মোকাবেলা করবে টেস্টিং, ট্র্যাকিং, ট্রিটমেন্ট, টিকা আর কভিডসম্মত আচরণবিধি পালনে জোর দিয়ে; লকডাউন দিয়ে নয়। সীতারামনের ভাষায়, ‘যতই দ্বিতীয় ধাক্কা আসুক, আমাদের স্পষ্ট কথা হলো ভারত বড় আকারে কোনো লকডাউনে যাবে না। অর্থনীতির চাকাকে আমরা স্তব্ধ করতে চাই না।’

এদিকে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা নেওয়ার পর রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কয়েকটি ঘটনা ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় এই টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এই টিকা নেওয়ার পর মার্কিনমুলুকে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনের রক্ত জমাট বাঁধার শিকার হয়েছে। দেশটির খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জানিয়েছে, জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা নেওয়ার পর এ পর্যন্ত মোট ছয়জনের রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তরা সবাই নারী; তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৪৮ বছরের মধ্যে।

অন্যদিকে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত করোনার টিকার ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে ডেনমার্ক। টিকা নেওয়ার পর রক্ত জমাট বাঁধার উদ্বেগ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।

গত সপ্তাহে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপীয়ান মেডিসিন এজেন্সি জানায়, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা থাকলেও করোনায় মৃত্যুর ঝুঁকি আরো বেশি। ইউরোপের কয়েকটি দেশ সাময়িকভাবে এই টিকার প্রয়োগ স্থগিত করে।



সাতদিনের সেরা