kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

মিয়ানমারের স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি, নিহত ১

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমারের স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি, নিহত ১

মিয়ানমারের মান্দালয়ে মোগক শহরে গতকাল জান্তাবিরোধী এক দীর্ঘ মিছিল হয়। ফেসবুক থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির সংগৃহীত এই ছবি এএফপিতে জায়গা করে নেয়

মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতা দুই-আড়াই মাস ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে, আর প্রতিদিনই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গণতন্ত্রকামীদের রক্ত ঝরছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও মান্দালয় শহরে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান সেনা সদস্যরা।

নববর্ষ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয় মিয়ানমারে। দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব। স্থানীয় ভাষায় নববর্ষকে বলা হয় ‘থিংইয়ান’। বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দিয়েছে যে এবার তারা নববর্ষ উদযাপন করবে না। বরং সরকারি ছুটির এই পাঁচ দিন বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে তারা।

পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে গতকাল মিছিল করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু মিছিল শুরুর কয়েক মিনিটের মাথায় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান সেনা সদস্যরা। বিক্ষোভকারীরা তখন পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেনা সদস্যরা সেখানে গিয়েও গুলি চালালে ওই ভবনের এক বাসিন্দা নিহত হন। আহত হন কয়েক বিক্ষোভকারী।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলে, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সব জায়গায় গুলি চালাচ্ছে। মানুষজন ভয়ে মসজিদের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিল; তারা সেখানে গিয়েও গুলি চালিয়েছে। যে ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, তাঁর বুকের এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে।’

মিছিলে অংশ নেওয়া এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ‘আমাদের ছয় চিকিৎসক ও নার্সকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগও করতে পারছি না।’

জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কয়েজ হাজার সরকারি চাকরিজীবী ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রায় আড়াই মাস ধরে কর্মস্থলে যান না তাঁরা। এই অসহযোগ আন্দোলনে একেবারে সামনের কাতারে রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ এনএলডির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। এর পর থেকেই জান্তা সরকারের পতন ঘটাতে এবং সু চিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ চলছে মিয়ানমারের রাজপথে। বিক্ষোভ দমাতে গুলি ছুড়তেও পিছপা হচ্ছেন না নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা