kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

মিয়ানমার ইস্যুতে জাতিসংঘ

জান্তা সরকারের কর্মকাণ্ড ‘সম্ভবত’ মানবতাবিরোধী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জান্তা সরকারের কর্মকাণ্ড ‘সম্ভবত’ মানবতাবিরোধী

মিয়ানমারের জান্তা সরকার ‘সম্ভবত মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট। এ ছাড়া মিয়ানমারের পরিণতি সিরিয়ার মতো হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানান।

বিবৃতিতে ব্যাচেলেট জানান, জান্তা সরকার গত আড়াই মাসে তিন হাজার ৮০ জনকে গ্রেপ্তার কিংবা গুম করেছে। এ ছাড়া ‘গোপন’ বিচারের মাধ্যমে ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে ব্যাচেলেট আরো বলেন, ‘আমার আশঙ্কা হলো, মিয়ানমার ক্রমে পুরোদস্তুর সংঘাতের দিতে অগ্রসর হচ্ছে। অতীতে সিরিয়া যে মারাত্মক ভুল করেছে, একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা মিয়ানমার রাষ্ট্রযন্ত্রের উচিত হবে না।’ তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে সিরিয়ার পরিস্থিতি যেমন ছিল, বর্তমানে মিয়ানমারেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।’ ব্যাচেলেট মনে করেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমাতে মিয়ানমারের জান্তা সরকার মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মিয়ান অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। লাখ লাখ মানুষ খাদ্য কিংবা চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকেই জীবিকার তাগিদে বাসস্থান ছেড়ে অন্যান্য শহরে চলে গেছে।’

ব্যাচেলেট আরো বলেন, ‘কাচিন, শান, কাইয়িন প্রদেশসহ অনেক এলাকায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সংঘাতের পরিমাণও গত আড়াই মাসে অনেক বেড়ে গেছে।’

নববর্ষ উপলক্ষে গতকাল থেকে পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে মিয়ানমারে। এই পাঁচ দিন জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন গণতন্ত্রকামীরা। এর মধ্যে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এই বিবৃতি দেওয়া হলো। প্রায় এক মাসে একই ধরনের বিবৃতিতে দিয়েছিলেন

জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ।

মিয়ানমারের নববর্ষকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘থিংইয়ান’। দেশটিতে এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব। নববর্ষে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়ার যুক্তি হিসেবে আন্দোলনকারীদের এক নেতা থিনজার মাউং ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সামরিক সরকার থিংইয়ানকে ধারণ করে না। এ ছাড়া জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে নেই।’

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সিলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উয়িন মিন্টসহ এনএলডি শীর্ষ নেতাদের। এর পর থেকেই জান্তা সরকারের পতন ঘটাতে এবং সু চিসহ শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ চলছে মিয়ানমারের রাজপথে। বিক্ষোভ দমাতে গুলি ছুড়তেও পিছপা হচ্ছেন না নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা