kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী আন্দোলন

নির্যাতনের মুখে তরুণদের ভরসা প্রচারপত্রে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টানা ৫৬ দিন জনগণকে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে মিয়ানমারের জান্তা। কিন্তু তাতে জান্তাবিরোধী আন্দোলনের গতি দমানো যায়নি। প্রচলিত উপায়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের পাশাপাশি চলছে রক্তলাল রঙে রাস্তা রাঙানো, জুতা মিছিলের মতো অভিনব কর্মসূচিও। আর এসবের পাশাপাশি চলছে গোপনে ছাপানো প্রচারপত্র বিলি করে জান্তাবিরোধীদের তরুণ সম্প্রদায়কে একাট্টা রাখার প্রচেষ্টা।

গত ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানে গণতান্ত্রিক সরকারকে উত্খাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জনতার বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে জান্তা সরকার পরিস্থিতি সহিংস করে তোলে। জান্তার সহিসংতা মৃত্যুর সংখ্যা এরই মধ্যে ৭০০ ছাড়িয়েছে। গ্রেপ্তারের সংখ্যা তিন হাজার পেরিয়ে গেছে, যাদের মধ্যে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি আছে বিভিন্ন ঘরানার তারকা ব্যক্তিরাও। বিক্ষোভ দমনে ইন্টারনেটের ব্যবহার সীমিত রাখার পথও আগেই ধরেছে জান্তা।

এমন পরিস্থিতিতে জান্তাবিরোধী তথ্য প্রচার করতে আর বিক্ষুব্ধদের মনোবল অটুট রাখতে চলছে গোপনে প্রচারপত্র ছাপিয়ে সেগুলো বিলি করার কাজ। এসব প্রচারপত্রের কাগুজে কপি বিলির কাজ তো চলছেই, সেই সঙ্গে পিডিএফ (প্রচারপত্রের কম্পিউটারাইজড ভার্সন) কপিও ডাউনলোড করে নিচ্ছেন আগ্রহীরা। দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষের কাছে এভাবেই পৌঁছে যাচ্ছে বিপ্লবী বার্তা।

জান্তাবিরোধী এই তৎপরতায় ঝুঁকির কথা জেনেও কাজটা করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট তরুণরা। মলোতোভ শীর্ষক ওই প্রচারপত্রের সঙ্গে যুক্ত এক তরুণ বলেন, ‘আমরা এভাবে বিপ্লবী নিবন্ধ লিখে বিলি করতে থাকলে একসময় হয়তো আমরা বহু বছরের জন্য কারারুদ্ধ হবো।’ তিনি এটাও বলেন, ‘একজন গ্রেপ্তার হলেও মলোতোভ প্রচারপত্রের কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো তরুণ আছে। একজন মারা গেলে আরেকজন আসবে। বিপ্লব সফল না হওয়া পর্যন্ত মলোতোভ প্রচারপত্রের কাজ চলতেই থাকবে।’ তাঁর মতে, জান্তা সরকার তথ্যপ্রবাহের গতি বাধাগ্রস্ত করছে এবং এটা সাধারণ মানুষের জন্য একটা হুমকি। এই হুমকির প্রতিবাদে মলোতোভ প্রচারপত্র প্রকাশের পথ ধরেছেন বিপ্লবী তরুণরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের এই প্রচারপত্রের পাঠকসংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই তরুণ।

জান্তার দখলে থাকা মিয়ানমারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখন সীমিত। ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে ৬৪ সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো বন্দি আছেন ৩৩ সাংবাদিক। অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স শীর্ষক পর্যবেক্ষক সংস্থার হিসাবে বাতিল করা হয়েছে পাঁচটি গণমাধ্যমের লাইসেন্স।

প্রায় অর্ধশতকের সামরিক শাসনের পর কিছু সময়ের জন্য হাঁপ ছেড়েছিল মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী মানুষ। ২০১১ সালে দেশটিতে সীমিত পরিসরে হলেও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ধারা শুরু হয়। এরপর ২০১৫ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ খ্যাত অং সান সু চির দল। মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় ধসে পড়ে মিয়ানমারের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আবার ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। এক বছরের জন্য জারি করা হয় কারফিউ। এরপর নির্বাচনের আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি জান্তা সরকার দিলেও তাতে বিশ্বাস করছে না গণতন্ত্রকামী জনতা। সূত্র : এএফপি।