kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

রাজপরিবারে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন প্রিন্স ফিলিপ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রানির স্বামী ছিলেন, কিন্তু কখনোই রাজা ছিলেন না ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপ। এমনকি কখনো রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারীদের কাতারেও ছিলেন না। অথচ তিনিই বদলে দিয়েছিলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের অনেক কায়দাকানুন।

১৯২২ সালে গ্রিসে প্রিন্স ফিলিপের জন্ম। মা-বাবার সূত্রে তিনি ছিলেন একই সঙ্গে গ্রিস ও ডেনমার্কের রাজকুমার। জন্মের পরের বছরেই গ্রিসে এক অভ্যুত্থানের পর তাঁর পরিবার দেশ থেকে বিতাড়িত হয়। নানা দেশ ঘুরে একসময় ব্রিটিশদের মূল ভূখণ্ডে শুরু হয় তাঁর বাস। তিনি যখন ডার্টমুথের রয়াল নেভাল কলেজে পড়েন, সেই সময় ১৯৩৯ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ সেখানে এক সরকারি সফরে গেলেন দুই মেয়ে প্রিন্সেস এলিজাবেথ ও প্রিন্সেস মার্গারেটকে নিয়ে। দুই মেয়ের দেখাশোনার ভার পরে প্রিন্স ফিলিপের ওপর। প্রিন্সেস এলিজাবেথের বয়স তখন মাত্র ১৩ বছর। এরপর থেকেই প্রিন্সেস এলিজাবেথের সঙ্গে প্রিন্স ফিলিপের পত্র যোগাযাগ শুরু হয়। ব্রিটিশ রাজপরিবারের অনেকের আপত্তি সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালে যুগলবন্দি হন দুজন। তবে এর আগে প্রিন্স ফিলিপকে গ্রিসের নাগরিকত্ব ছেড়ে ব্রিটেনের নাগরিকত্ব নিতে হয়েছিল। রাজপ্রাসাদে তাঁর যে সীমিত ভূমিকা নির্ধারিত ছিল, তিনি সেটার মধ্যে জীবনের কোনো মানে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বাকিংহাম প্যালেসে তিনি নতুন বাতাস সঞ্চারের জন্য ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রিন্স ফিলিপ রাজপরিবারকে কিভাবে বদলে দিয়েছেন?

গ্রিস থেকে যে তাঁদের পুরো পরিবারকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, সেটি প্রিন্স ফিলিপ কখনো ভুলতে পারেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজতন্ত্রকে টিকে থাকতে হলে ক্রমাগত খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

তিনি এমন কিছু মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করলেন, যেখানে রানি সমাজের বিভিন্ন পটভূমির মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা রাজভৃত্যদের মাথার চুল রং করার রীতি তিনি বন্ধ করলেন। তিনি যখন জানতে পারলেন যে রাজপ্রাসাদে শুধু রাজপরিবারের সদস্যদের রান্নার জন্য দ্বিতীয় একটি রান্নাঘর চালু আছে, সেটি তিনি বন্ধ করে দিলেন।

এর মধ্যে কিছু পরিবর্তন ছিল আরো ব্যক্তিগত। দৈনন্দিন জীবনযাপনে তিনি প্রযুক্তির ব্যবহারকে প্রাধান্য দিতে থাকেন। বাকিংহাম প্রাসাদে প্রিন্স ফিলিপ ইন্টারকম বসান, যাতে করে তাঁর হাতে লেখা চিঠি নিয়ে রাজভৃত্যদের বারে বারে রানির কাছে দৌড়াতে না হয়। প্রিন্স ফিলিপ তাঁর নিজের ব্যাগ নিজেই বহন করতেন এবং নিজের কক্ষে নিজের সকালে নাশতা নিজেই বানাতেন। কিন্তু ঘরে গন্ধ হচ্ছে বলে রানি আপত্তি করার পর সেটা তাঁকে বন্ধ করতে হয়। সূত্র : বিবিসি।