kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

চীনকে উপেক্ষা করে এগোচ্ছে তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরো গভীর করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস গত শুক্রবার এই নতুন নির্দেশনার কথা জানান। এর মধ্য দিয়ে তাইওয়ানের কর্মকর্তারা আগের চেয়ে ‘আরো মুক্তভাবে’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠক করতে পারবেন বলে জানায় মার্কিন প্রশাসন।

তাইওয়ান প্রণালিতে মার্কিন রণতরির তৎপরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই ঘোষণা দিল। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই নির্দেশনা তাইওয়ানের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ। হোয়াইট হাউস গত শুক্রবার জানায়, তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর তাদের ‘গভীর দৃষ্টি’ রয়েছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের নৌসীমানায় মার্কিন নৌ তৎপরতায় উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য নিন্দা জানিয়েছে চীন। নেড প্রাইস বলেন, নতুন নির্দেশনা তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগকে উন্মুক্ত করে তুলবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের ‘অনানুষ্ঠানিক গভীর সম্পর্ক’ প্রতিফলিত করার বিষয়টি ‘উৎসাহিত করতে’ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্য এক মার্কিন মুখপাত্র জানান, নতুন নির্দেশনার আওতায় তাইওয়ানের কূটনীতিকদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠকের ধরনে পরিবর্তন আসবে। তিনি জানান, আগের নির্দেশনায় এসব বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিধি-নিষেধ ছিল। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে তাইওয়ানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো ফেডারেল ভবনে অথবা তাইওয়ানের প্রতিনিধিদের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে তাইওয়ানের প্রতিনিধিরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

নতুন নির্দেশনাটি সামনে আসার আগে আরেকটি আলোচনা শোনা যায়। আগে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের টুইন ওকস এলাকায় তাইওয়ানের কূটনীতিকের বাসভবন ছিল। ১৯৭৯ সালে বেইজিংকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে এখানে তাইওয়ানের কূটনৈতিক কার্যক্রম চালু ছিল। নতুন ঘোষণায় এই স্থানটির তাৎপর্য রয়েছে কি না সেটি নিয়ে জল্পনা রয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এক চীন নীতির কারণে এ বিষয়ে এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

তাইওয়ানকে চীন তার নিজেদের অঞ্চল বলে মনে করে। চীন কখনোই তাইওয়ানের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের আলাদা কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বীকার করে না। বেইজিং চায়, বহির্বিশ্ব ‘এক চীন নীতি’র প্রতি শ্রদ্ধা দেখাক। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে চীনের প্রায়ই ঝামেলা বাধে। বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোয় একসঙ্গে কাজ করছে। তাইওয়ানও চীনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফরমোজা প্রণালিতে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়। কিন্তু চীন দুই পক্ষের এই অংশীদারিমূলক সম্পর্কের গভীরতা চায় না। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।