kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

যুক্তরাজ্যজুড়ে তোপধ্বনিতে প্রিন্স ফিলিপকে শ্রদ্ধা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুক্তরাজ্যজুড়ে তোপধ্বনিতে প্রিন্স ফিলিপকে শ্রদ্ধা

প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর প্রাসাদের সামনে ফুল দিয়ে গতকাল শোক ও শ্রদ্ধা জানায় মানুষ। ছবি : এএফপি

যুক্তরাজ্যজুড়ে গতকাল শনিবার তোপধ্বনির মাধ্যমে ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্বামী ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া এদিন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রথম পাতায় একচ্ছত্রভাবে জায়গা করে নেন প্রিন্স ফিলিপ। গত শুক্রবার উইন্ডসর ক্যাসলে মৃত্যুবরণ করেন ৯৯ বছর বয়সী ডিউক অব এডিনবরা। ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশিদিন ধরে রয়াল কনসোর্ট ছিলেন তিনি।

প্রিন্স ফিলিপের মৃত্যুতে দেশজুড়ে তোপধ্বনির মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্পেনের দক্ষিণ উপকূলে যুক্তরাজ্যের অধীনে থাকা জিব্রাল্টার এবং সমুদ্রে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো থেকেও একইভাবে সম্মান জানানো হয় তাঁকে। এরই মধ্যে সরকারি সব ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং তাঁর শেষকৃত্যের পরদিন সকাল পর্যন্ত সেটি অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় গতকাল দুপুর ১২টায় লন্ডন, এডিনবরা, কার্ডিফ, বেলফাস্টসহ অন্যান্য ব্রিটিশ শহরে প্রতি মিনিটে একটি করে মোট ৪১টি গুলি ছোড়া হয়। সাগরে এইচএমএস ডায়মন্ড ও এইচএমএস মনট্রোজসহ রয়াল নেভির অন্যান্য জাহাজ থেকে ডিউক অব এডিনবরার সম্মানে গান স্যালুট জানানো হয়।

অনলাইনে ও টিভি চ্যানেলে এই গান স্যালুট সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। করোনা বিধি-নিষেধের কারণে মানুষকে ঘরে বসেই এসব আয়োজন দেখতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

এর আগে ১৯০১ সালে ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়া এবং ১৯৬৫ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের মৃত্যুতে এ ধরনের গান স্যালুট দেওয়া হয়েছিল।

রয়াল কলেজ অব আর্মস সূত্রে জানা গেছে, উইন্ডসরের সেন্ট জর্জ চ্যাপেলে প্রিন্স ফিলিপকে সমাহিত করা হবে। তবে কোন দিন তাঁকে সমাহিত করা হবে, সেটি এখনো জানানো হয়নি। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে না এবং সাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ শায়িত রাখাও হবে না। কারণ প্রিন্স ফিলিপ অনুরোধ করে গেছেন, তাঁর শেষকৃত্য যেন আড়ম্বরসহকারে না করা হয় এবং জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শায়িত রাখা না হয়। এর পরিবর্তে রাজপরিবারের রীতি অনুযায়ী এবং প্রিন্স ফিলিপের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী শেষকৃত্য না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মরদেহ উইন্ডসর ক্যাসলের সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলে শায়িত রাখা হবে।

প্রিন্স ফিলিপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ছিলেন এবং নৌবাহিনীর আনুষ্ঠানিক প্রধানের পদ লর্ড হাই অ্যাডমিরাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ৯৬ বছর বয়সে সরকারি দায়িত্ব থেকে অবসরে যান।

প্রিন্সেস এলিজাবেথের সঙ্গে প্রিন্স ফিলিপের বিয়ে হয় ১৯৪৭ সালে। এর পাঁচ বছর পর ব্রিটিশ সিংহাসনে আরোহণ করেন দ্বিতীয় এলিজাবেথ। গত নভেম্বরে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপ তাঁদের ৭৩তম বিবাহবার্ষিকী পালন করেন।

করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে সে সময় উইন্ডসর প্রাসাদে আইসোলেশনে ছিলেন তাঁরা। গত বছরের জুলাইয়ে একটি সামরিক অনুষ্ঠানে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায় প্রিন্স ফিলিপকে।

প্রিন্স ফিলিপ শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি লন্ডনের কিং এডওয়ার্ড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে লন্ডনে হৃদরোগের জন্য বিশেষায়িত সেন্ট বার্থলোমিউ হাসপাতালে তাঁর হৃদযন্ত্রের পুরনো সমস্যার কারণে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এক মাস চিকিৎসার পর গত ১৬ মার্চ তিনি উইন্ডসর প্রাসাদে ফিরে যান। সেখানেই তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গত শুক্রবার সকালে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রিন্স ফিলিপ : মতাদর্শগত ভিন্নতা নিয়ে প্রতিদিনের কাজ চালিয়ে যাওয়া ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো গতকাল এক অভূতপূর্ব ঐক্য দেখিয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলো এদিন প্রিন্স ফিলিপকে নানা অভিধায় ভূষিত করে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করে তাঁকে শেষবিদায় জানায়। শীর্ষস্থানীয় প্রচলিত দৈনিকের পাশাপাশি ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোও গতকাল এ ধারায় যুক্ত ছিল।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।