kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

কঠিন সংকট দেশবাসীকে প্রস্তুত হতে বললেন উন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কঠিন সংকট দেশবাসীকে প্রস্তুত হতে বললেন উন

উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের ‘কঠিন সংকট’ মোকাবেলায় প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। গত বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির এক সম্মেলনে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে এই সতর্কবার্তা দেন।

বহির্বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন এশীয় দেশটি ভয়াবহ খাদ্য ঘাটতি ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি—বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের এমন সতর্কবার্তার পর উন এমন আহ্বান জানালেন। দলের সম্মেলনে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে গত শতকের শেষের দশকে দেশটিতে দেখা দেওয়া ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন বলে জানায় বিবিসি।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি ঠেকাতে পশ্চিমা গোষ্ঠী কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখায় দেশটির অর্থনীতি আগে থেকেই চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। একমাত্র শক্তিশালী মিত্র চীনের সঙ্গে বাণিজ্যই তাদের ভরসার জায়গা। করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতেই উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় চীনের সঙ্গে থাকা বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে।

নতুন এ পরিস্থিতিতে উনের কঠোর হুঁশিয়ারির ব্যাপারে এনকে নিউজের উত্তর কোরীয় বিশেষজ্ঞ কলিন জোয়ারকো মনে করেন, কঠিন সময় ও সংকটের কথা বলা উনের জন্য একেবারে নতুন নয়। কিন্তু এবার তাঁর ভাষা বেশ কড়া, এটাই পার্থক্য। গত বছর অক্টোবরে এক ভাষণে তিনি উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনে নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। এবার স্পষ্ট করেই তিনি ‘আরডিইয়াস মার্চ’ সামলানোর কথা বলছেন। এই ধরনের কিছু আগে তিনি কখনোই বলেননি।

উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা সাধারণত ‘আরডিইয়াস মার্চ’ অভিধার মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকে দেশটিতে হওয়া ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন-পররর্তী ওই সময়ে দেশটিতে বৈদেশিক সহযোগিতার পরিমাণ কমে যায়। সেবারের দুর্ভিক্ষ উত্তর কোরিয়ায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

কয়েক দিন আগেও কিম উত্তর কোরিয়া এখন ‘সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি’ ও ‘অভূতপূর্ব সব চ্যালেঞ্জের’ মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছিলেন।

উত্তর কোরিয়ার মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে সতর্কবার্তা মিলছে। দেশটির বেশির ভাগ এলাকা, বিশেষ করে চীন সীমান্তবর্তী শহরগুলোর বাসিন্দাদের অবস্থা ‘খুব খারাপ’ বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

এর মধ্যে উত্তর কোরিয়ার মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত টমাস ওজেয়া কুইনটানা গত মাসে এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভয়াবহ খাদ্যসংকটের কারণে দেশটিতে এরই মধ্যে অপুষ্টি ও ক্ষুধা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্ষুধায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিবার সহযোগিতা করতে না পারায় ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।’

ভয়াবহ এই খাদ্য ঘাটতির মধ্যে দেশটিতে কোনো ত্রাণ সহযোগিতা পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সূত্র : বিবিসি।