kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

মিয়ানমারে অস্থিরতা

জান্তার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

গাড়িতে রাত কাটানো রাষ্ট্রদূতকে আশ্রয় দেবে যুক্তরাজ্য

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জান্তার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত একটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে মার্কিন রাজস্ব বিভাগ। এদিকে লন্ডন দূতাবাস থেকে বের করে দেওয়া মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়া জোয়ার মিনকে আশ্রয় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

জান্তা সরকারের পতন ঘটাতে এবং সু চিসহ শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে প্রায় দুই মাস ধরে বিক্ষোভ চলছে মিয়ানমারের রাজপথে। বিক্ষোভ দমাতে গুলি ছুড়তেও পিছপা হচ্ছেন না নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘অ্যাসিট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স’ (এএপিপি) জানিয়েছে, গত দুই মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ছয় শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। যদিও ধারণা করা হয়, প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হবে। এ ছাড়া গত দুই মাসে গ্রেপ্তার ও গুম করা হয়েছে অন্তত সাড়ে তিন হাজার ব্যক্তিকে। তাদের মধ্যে সাংবাদিক, অভিনেতা, সরকারি আমলা, গায়ক ও মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছে।

জান্তা সরকারকে শুরু থেকেই চাপে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত ‘মিয়ানমা জেমস এন্টারপ্রাইজকে’ কালো তালিকাভুক্ত করেছে তারা। মার্কিন রাজস্ব দপ্তরের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অ্যান্ড্রু গাচকি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মিয়ানমারের জান্তা সরকারের অর্থের জোগান বন্ধের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

‘মিয়ানমা জেমস এন্টারপ্রাইজ’ মিয়ানমারের খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। জেমস (মূল্যবান রত্ন) রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। দেশটির সামরিক বাহিনীর যে আয়, তার বড় একটা অংশ এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসে। গাচকির বিবৃতিতে বলা হয়, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান ‘মিয়ানমা জেমস এন্টারপ্রাইজের’ সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যবসা করতে পারবে না।

এরই মধ্যে মিয়ানমারের শীর্ষস্থানীয় একাধিক সামরিক কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাইডেন প্রশাসন।

এদিকে দূতাবাস থেকে বের করে দেওয়ার পর গাড়ির ভেতরে রাত কাটিয়েছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জোয়ার মিন। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, জোয়ার মিনকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় দেওয়া হবে। গত বুধবার জোয়ার মিনকে দূতাবাস ভবন থেকে বের করে দিয়ে নিজেকে নতুন রাষ্ট্রদূত ঘোষণা করেন উপরাষ্ট্রদূত। জোয়ার মিনকে আশ্রয় দিলেও তাঁকে আর রাষ্ট্রদূতের স্বীকৃতি দেওয়া হবে না বলেও নিশ্চিত করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়াবিষয়ক মন্ত্রী নাইজেল অ্যাডামস।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিক সরকারকে উচ্ছেদ করে ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। জান্তাবিরোধী আন্দোলন শিগগিরই সহিংসতায় রূপ নেয়। সাধারণ জনতার এ আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে মিয়ানমারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জান্তার রোষের শিকার হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত মিয়ানমারে রাষ্ট্রদূত জোয়ান মিন ভুক্তভোগীদের একজন। সূত্র : রয়টার্স, এএফপি।