kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

মিয়ানমারে নিহত আরো ১৩

জান্তার মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক লাখ ৮০ হাজার প্রমাণ জাতিসংঘে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মিয়ানমারে নিহত আরো ১৩

ছবি : ইন্টারনেট

মিয়ানমারের দুটি শহরে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

গতকাল বুধবার হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে একটি চীনা কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা এদিন চীনের পতাকাও পুড়িয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন উপেক্ষা করেই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় লাগাতার বিক্ষোভ ও ধর্মঘট চলছে। গণতান্ত্রিক সরকারকে উত্খাত করে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে টালমাটাল দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত ৫৮০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস।

লাগাতার বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় গতকাল মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালেতে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ হয়। নিরাপত্তা বাহিনী ওই বিক্ষোভে গুলি চালায় বলে সেখানকার এক বাসিন্দা জানান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম কালেতে একাধিকবার গুলিবর্ষণ ও হতাহতের খবর দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ওই শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। এ ছাড়া গতকাল ইয়াঙ্গুনের কাছে বাগো শহরেও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আরেক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

এদিকে একই দিন ইয়াঙ্গুনে এক চীনা পোশাক কারখানায় আগুন দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে মিয়ানমারের ফায়ার সার্ভিস বিভাগ। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাত্ক্ষণিক জানা যায়নি। ইয়াঙ্গুনের আরেক এলাকায় চীনা পতাকায় বিক্ষোভকারীদের আগুন দেওয়ার ছবি ফেসবুকে ঘুরছে।

গতকাল এক বিবৃতিতে সামরিক সরকার প্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, আন্দোলনের কারণে হাসপাতাল, স্কুল, সড়ক, বিভিন্ন দপ্তর ও কারখানা স্থবির হয়ে আছে।

জান্তাবিরোধী প্রমাণ নিয়ে জাতিসংঘের দ্বারে : মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতিনিধিরা জান্তাবিরোধী প্রায় দুই লাখ প্রমাণ নিয়ে গতকাল জাতিসংঘের তদন্তকারীদের সঙ্গে দেখা করেন। কমিটি ফর রিপ্রেজেন্টিং পাইদংসু হ্লুত্ত (সিআরপিএইচ) শীর্ষ ওই প্রতিনিধিদলের বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের পক্ষের এক আইনজীবী গতকাল জান্তাবিরোধী এক লাখ ৮০ হাজার সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে জাতিসংঘের তদন্তকারীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। জান্তা সরকারের নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা চিত্র উঠে এসেছে ওই সব সাক্ষ্য-প্রমাণে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা