kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

মিয়ানমারে শিশু হত্যা ও গুমের নিন্দা

গোপনীয়তা আইনে সু চির বিরুদ্ধে আরেক মামলা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মিয়ানমারে শিশু হত্যা ও গুমের নিন্দা

মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি কারেন রাজ্যের দুপ্লায়া জেলার এক গ্রামে গতকাল জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ হয়। ছবি : এএফপি

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে শিশুদের হত্যা করা আর গ্রেপ্তার লোকজনকে গুম করার যেসব ঘটনা ঘটছে, গতকাল শুক্রবার সেসবের নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দুই সংস্থা।

মানবাধিকার সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের ভাষ্যমতে, মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সশস্ত্র বাহিনী অন্তত ৪৩ শিশুকে হত্যা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি ‘দুঃস্বপ্নের মধ্যে’ আছে এবং সেখানে নিহত সবচেয়ে অল্প বয়সী শিশুটির বয়স মাত্র সাত বছর।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনে মোট নিহতের সংখ্যা ৫৩৬ বলে জানিয়েছে স্থানীয় পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস। এর মধ্যে গত শনিবার এক দিনে ১৪১ জনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী রাস্তায় লোকজনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়েছে আর কিছু লোক তাদের নিজ বাড়িতেই নিহত হয়েছে।

সাত বছরের যে মেয়েটি নিহত হয়েছে তার পরিবার বলেছে, মার্চের শেষ দিকে তাদের মান্দালয় শহরের বাড়িতে অভিযান চলাকালে বাবার দিকে দৌড়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে খিন মিয়ো চিত মারা যায়। নিহতের বোন মে থু সুমায়া (২৫) বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দরজা খোলার জন্য লাথি মারে। দরজা খুলে যাওয়ার পর তারা আমার বাবাকে জিজ্ঞেস করে বাড়িতে অন্য কোনো লোক আছে কি না। ‘না’ বলার পর তিনি মিথ্যা বলছেন অভিযোগ করে তারা বাড়ি তল্লাশি শুরু করে। এ সময় খিন মিয়ো বাবার দিকে দৌড়ে গেলে তখনই তারা গুলি করে আর তা ওর গায়ে লাগে।”

নিহতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক ছেলে মান্দালয়ে নিজ বাড়ির ভেতরে বা কাছে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয় বলে ধারণা করা হয়। ইয়াঙ্গুনে রাস্তায় খেলার সময় ১৩ বছর বয়সী আরেক ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

সংঘর্ষে আহত শিশুদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে সতর্ক করেছে সেভ দ্য চিলড্রেন। একটি ঘটনায় এক বছর বয়সী একটি শিশু চোখে রবার বুলেট বিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

সহিংসতার কারণে শিশুরা ভয়, শোক ও চাপে ভুগতে থাকায় তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার গোষ্ঠীটি।

এদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগ, জান্তা সরকার আন্দোলনকারীদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে শত শত লোক নিখোঁজ রয়েছে। গুম হওয়া এসব মানুষের অবস্থান জানাতে অস্বীকার করছে জান্তা সরকার।

সু চির বিরুদ্ধে আরেক মামলা : অং সান সু চির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা মামলার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে সরকারি গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ। ঔপনিবেশিক আমলের এই আইন ভাঙার মামলাটিই গণতন্ত্রপন্থী এই নেত্রীর বিরুদ্ধে আনা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ বলে মন্তব্য করছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এই আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত হলে সু চির ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার সু চির প্রধান আইনজীবী খিন মং জাও জানান, এক সপ্তাহ আগে ইয়াঙ্গুনের একটি আদালতে সু চি, তাঁর পদচ্যুত মন্ত্রিসভার তিন সদস্য ও অস্ট্রেলিয়ান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা শন টার্নেলের বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইনের অধীনে মামলা হয়েছে। দুই দিন আগে তিনি নতুন এই মামলার বিষয়টি জেনেছেন বলে জানান।

সামরিক জান্তা এর আগে সু চির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ছোটখাটো অপরাধে মামলা করেছিল। এর মধ্যে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে ছয়টি ওয়াকিটকি আনা, বেআইনি যোগাযোগের জন্য সেগুলো নিজের কাছে রাখা এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জারি করা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে।

১ ফেব্রুয়ারি সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী। সু চি ও এনএলডির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করে কারাবন্দি করা হয়। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।