kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ চৈত্র ১৪২৭। ১৩ এপ্রিল ২০২১। ২৯ শাবান ১৪৪২

জর্জ ফ্লয়েড হত্যা

ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয়ে পরিবার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয়ে পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া এগোতে শুরু করলেও ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয় কাটেনি তাঁর পরিবারের। সেই একই সংশয় থেকে ন্যায়বিচারের দাবিতে গত রবিবার পদযাত্রা করেছে মিনিয়াপোলিসের হাজারো মানুষ।

আফ্রিকান আমেরিকান নাগরিক ফ্লয়েডকে গত বছর ২৫ মে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলেন পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বের হলে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে বর্ণবাদবিরোধী প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেই ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে ফ্লয়েডের মামা সেলউইন জোনস জানান, ফ্লয়েডের গলা চেপে ধরার সময় ওই পুলিশ সদস্য বলছিলেন, তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন, কারণ তিনি একজন শ্বেতাঙ্গ এবং তাঁরাই গোটা বিশ্ব শাসন করেন।

অভিযুক্ত শভিনের বিরুদ্ধে মিনিয়াপোলিসের হানিপিন কান্ট্রি কোর্টে গতকাল সোমবার থেকে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। গতকাল বিচারক নিয়োগের মধ্য দিয়ে মামলার কার্যক্রম শুরু করার কথা জানায় সংবাদমাধ্যমগুলো। আগামী ২৯ মার্চ মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হবে। তবে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ফ্লয়েডের মামা সেলউইন জোনস।

জোনস বলেন, ‘আমি চাই, ন্যায়বিচারের জয় হোক। আমি অবশ্যই অপরাধীদের শাস্তি চাই।’ কিন্তু তাঁর আশঙ্কা, আইনি জটিলতার কারণে বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের দায়মুক্তির বিধান থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত হয়তো শভিন পার পেয়ে যাবেন। পুলিশের দায়মুক্তির ঘটনা আগের বহুবার ঘটেছে বলে তাঁর অভিযোগ।

জোনস ১৯৯২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে সংঘটিত একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ওই সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একজন কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এর বিচারে তিনজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। চতুর্থজনের বিরুদ্ধে আদালত কোনো রায়ই দেননি। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান আমেরিকান ও লাতিন আমেরিকান অঞ্চলে ছয় দিনব্যাপী দাঙ্গা হয়। এতে ৬৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। জোনস আশঙ্কা করছেন, শভিন অব্যাহতি পেলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনাটি করোনাভাইরাসে মহামারির মাঝামাঝি সময়ে। জোনস বলেন, ‘বর্ণবাদ কেমন হতে পারে তা বিশ্বের মানুষ মহামরির সময়ে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছে। এসব ঘটার কারণ বর্ণবাদ, ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণ। বছরের পর বছর ধরে আমাদের পিছিয়ে পড়ার কারণও এসবই।’ তবে জোনস জানান, ভাগ্নের মৃত্যুর পর বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ-বিক্ষোভ তাঁকে কিছুটা আশাবাদী করে তুলেছে।

এদিকে ন্যায়বিচারের দাবিতে গত রবিবার মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ হয়েছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য