kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

অসহযোগে অচল মিয়ানমার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অসহযোগে অচল মিয়ানমার

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধীদের ওপর গতকাল নিরাপত্তা বাহিনীর লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ চলে নির্বিচারে। ইয়াঙ্গুন থেকে তোলা। ছবি : এএফপি

জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে অব্যাহত বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ছে মিয়ানমার। বিশেষ করে, লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবী কর্মবিরতির ডাক দেওয়ায় দেশটির সেবামূলক সব খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রাজপথে নেমেছে হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীও। এ অবস্থায় জান্তা সরকার হুমকি দিয়েছে, কাজে না ফিরলে সরকারি কর্মীদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।

এদিকে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক দূত বলেছেন, জান্তা সরকারকে হটিয়ে দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বসম্প্রদায়কে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ‘ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির’ (এনএলডি) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। বিক্ষোভকারীদের দমাতে ধরপাকড় কিংবা ইন্টারনেট বন্ধ করা থেকে শুরু করে গুলি চালানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে জান্তা সরকার।

জান্তা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

গতকাল শনিবার রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অবিলম্বে কাজে না ফিরলে সরকারি চাকরিজীবীদের বরখাস্ত করা হবে। আর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ৮ মার্চ থেকেই।’

গতকাল শনিবারও দেশটির বিভিন্ন শহরে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলীয় লাশিও কিংবা লইকো—সব শহরের রাজপথ ছিল বিক্ষোভকারীদের দখলে।

রাজপথের আন্দোলন কিংবা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এখন পর্যন্ত অবশ্য নমনীয় হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই জান্তা সরকারের। গত শুক্রবার রাতে মিয়ানমার ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক হয়। সেখানে জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গেনার বলেন,  ‘মিয়ানমারে চলমান দমন-পীড়ন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আর এ জন্য বিশ্বসম্প্রদায়ের মধ্যে নজিরবিহীন ঐক্য প্রয়োজন।’

কূটনীতিকরা অবশ্য মনে করেন, নিন্দা জানানো ছাড়া জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপে চীন ভেটো দেবে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য