kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

ভারতের বিতর্কিত কৃষি আইন

কৃষকদের পাহারায় নিহাং যোদ্ধারা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষকদের পাহারায় নিহাং যোদ্ধারা

ভারতের বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকবে, তেমনটাই কথা ছিল। তা সত্ত্বেও সরকারপক্ষের সঙ্গে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। তাই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য রীতিমতো রণসাজ নিয়েছে কৃষকদের একটি অংশ। তাঁরা অন্য কেউ নন, পাঞ্জাবের ঐতিহ্যবাহী নিহাং যোদ্ধারা।

পাঞ্জাবের ঐতিহ্যবাহী রাজবংশের সশস্ত্র যোদ্ধা এই নিহাংরা। সিংঘুসহ দিল্লি সীমান্তে মাথায় নীল পাগড়ি, গায়ে বেশ লম্বা পোশাক, বিশেষ ধরনের তীর-তলোয়ারের পাশাপাশি ওয়াকিটকি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে কয়েক শ নিহাংকে। কৃষকদের তাঁবু ও ট্রাক্টরের চারপাশে সশস্ত্র টহল দিতে ব্যস্ত তাঁরা। তাঁদের ভাষ্য, বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের আক্রমণ করা হলে তাঁরা রুখে দাঁড়াবেন।

এমন একজন সশস্ত্র ব্যক্তির নাম অমর সিং, যিনি একটি টহলদলের তদারিক করছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এই লড়াই একটি সুনির্দিষ্ট কারণে। কেউ বিক্ষোভকারীদের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে প্রথমে আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের ভাইদের রক্ষা করতে এসেছি এবং এ জন্য বাঁচা কিংবা মরার জন্য প্রস্তুত আমরা।’ তিনি জানান, তাঁদের দাবির জায়গায় কখনো নতিস্বীকার করবেন না তাঁরা।

গত ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানের দিনে দিল্লির রাস্তায় কৃষকদের সঙ্গে বড় সংঘর্ষ হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রজাতন্ত্র দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কৃষকদের প্রবেশ ঠেকাতে রাজপথে পাথর-সিমেন্টের দেয়াল তুলে দেয়। দেয়ালের ওপাশে অবস্থান নেয় কয়েক হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা। অন্যদিকে পাঞ্জাবি নিহাং যোদ্ধারা কৃষকদের ট্রাক্টরদের পাশে ঘোড়ায় চড়ে ছুটতে থাকে। দিল্লির রাজপথে শিখদের ঐতিহ্যবাহী ‘গাটকা’ লড়াই চর্চা করতে দেখা যায় এবং বিশেষ পানীয় পান করতে দেখা যায়। ছুরি, তলোয়ার ও বর্শা নিয়ে সাধারণ পাঞ্জাবিদের পাশেই ছিলেন নিহাংরা। সেদিন শিখদের ধর্মীয় পতাকা উড়িয়েছিলেন তাঁরাই। প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে লালকেল্লার পাশে নিহাংদের সঙ্গে পুলিশের লড়াই চোখে পড়েছে। সে সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছিল। অস্ত্র চালনার অভিযোগে নিহাংরা তখন বেশ সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে জানা গেছে, পাঞ্জাবি শিখদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সশস্ত্রভাবে সজ্জিত হওয়ার বিষয়টি ভারতীয় সংবিধানে অনুমোদিত।

সর্বশেষ শিখ ধর্মগুরু ধর্ম রক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ১৭ শতকে নিহাং বাহিনী গঠন করে। এর শুরুটা হয়েছিল ১৫০০ সালের দিকে। শিখ রাজবংশের সামরিক ইতিহাসে তাদের কথা পাওয়া যায়। মোগল ও আফগানদের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবিদের লড়াইয়ের সময় এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এরপর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির হাত ধরে পাঞ্জাব রাজবংশের ইতি ঘটলে নিহাংদের ভূমিকাও কমতে শুরু করে। তবে এসব যোদ্ধার পরবর্তী প্রজন্ম সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। পাঞ্জাবিরা এখনো নিহাংদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য