kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

রাহুলের খোলামেলা মন্তব্য

ইন্দিরার জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত ভুল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইন্দিরার জরুরি অবস্থা  জারির সিদ্ধান্ত ভুল

ভারতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর শাসনকালে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত টানা ২১ মাস জরুরি অবস্থা জারি ছিল। ইন্দিরার সেই সিদ্ধান্ত আজও তাড়িয়ে বেড়ায় কংগ্রেস দলকে। ওই প্রসঙ্গ উঠলেই কৌশলে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন দলের নেতারা, কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটালেন খোদ ইন্দিরার নাতি ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা তাঁর ঠাকুমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তবে ওই সময়ের পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের বর্তমান সময়ের তুলনা টেনে তিনি বলেছেন, বর্তমান শাসকরা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্বাসরোধ করছে।

আমেরিকার কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুর সঙ্গে মঙ্গলবার অনলাইনে খোলামেলা আলোচনায় বসেন রাহুল। সেখানেই জরুরি অবস্থা থেকে শুরু করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অকপট ছিলেন রাহুল। সেখানেই ইন্দিরার শাসনকালে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত টানা ২১ মাস জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ উঠে আসে।

সে নিয়ে মতামত চাইলে রাহুল বলেন, ‘আমার মনে হয়, ওটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ঠাকুমা নিজেও তা মেনেছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস কখনো দেশের সাংবিধানিক পরিকাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেনি। সত্যি কথা বলতে কি, কংগ্রেসের সেই ক্ষমতাও নেই। আমাদের দলীয় পরিকাঠামোই তাতে অনুমোদন দেয় না।’

জরুরি অবস্থার সময় গেরুয়া শিবিরের বহু নেতাকে জেলবন্দি করা হয়েছিল। বর্তমানে বিজেপি যখন ক্ষমতায়, তা নিয়ে লাগাতার আক্রমণের মুখে পড়েছে কংগ্রেস। গত বছর জুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে গান্ধী পরিবার এবং কংগ্রেসকে তুলাধেনা করেন। একটি পরিবারের ক্ষমতার লোভ রাতারাতি গোটা দেশকে জেলখানায় পরিণত করেছিল বলে তোপ দেগেছিলেন তিনি। কিন্তু রাহুলের দাবি, জরুরি অবস্থা এবং বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) লোকজন এনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভরিয়ে তোলা হচ্ছে। নির্বাচনে বিজেপিকে যদি পরাজিতও করে কংগ্রেস, প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো থেকে গেরুয়া শিবিরের লোকজনকে ছেঁটে ফেলার উপায় নেই। রাহুল বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্যই আধুনিক গণতন্ত্রের পরিচয়। প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে। বর্তমানে আরএসএস সেই স্বাধীনতার ওপরই আঘাত হানছে। সুকৌশলে, নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসারে গোটা বিষয়টি সম্পাদন করা হচ্ছে। 

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য