kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

নির্দেশদাতা হয়েও যুবরাজ নিষেধাজ্ঞার বাইরে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্দেশদাতা হয়েও যুবরাজ নিষেধাজ্ঞার বাইরে

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবের ৭৬ নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার প্রকাশিত এই তালিকায় অবশ্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম নেই। যদিও একই দিন মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজ সালমানের অনুমতি নিয়েই সৌদি এজেন্টরা খাশোগিকে হত্যা করে।

একসময় সৌদি সরকারের পরামর্শক ছিলেন। রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও ছিল তাঁর। কয়েক বছর আগে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত হয়েছিলেন খাশোগি। সেখানে থেকে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে প্রায়ই রাজপরিবারের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি করতেন। ২০১৮ সালে ২ অক্টোবর বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যান খাশোগি। সেখানে যাওয়ার পর খুন হন তিনি। সৌদি আরব তাঁকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত যুবরাজ সালমানের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেনি।

এ অবস্থায় গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যুবরাজ সালমানকেই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা কিংবা আটকের অনুমোদন দিয়েছিলেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের এই গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। গতকাল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সৌদি নেতৃত্বের নাম জড়িয়ে যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে, তা অসত্য ও ভিত্তিহীন।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এমন সময় প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো, যখন সৌদি সরকার এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পরই মার্কিন রাজস্ব বিভাগ জানায়, খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, ‘ভিন্নমতালম্বী লেখক কিংবা সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। খাশোগি হত্যায় জড়িত ৭৬ সৌদি নাগরিকও এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়বেন।’ ব্লিনকেন বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলছি, সৌদি আরবে ভিন্নমতালম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। এ ধরনের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সৌদি আরবের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে চাচ্ছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্লিনকেন বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না, বরং সম্পর্কের কিছু জায়গা সংশোধন করতে চায়। আর এই সংশোধন করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।’

মার্কিন অর্থমন্ত্রী জেনেট ইয়েলেন বলেছেন, ‘জামাল খাশোগি হত্যায় জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।’

খাশোগির গড়ে তোলা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ডেমোক্রেসি ফর দি আরব ওয়ার্ল্ড নাও’ মার্কিন সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধেও যেন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই ধরনের দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আইন প্রণেতাও। সিনেটের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বব মেনেনদেজ বলেছেন, ‘অপরাধ করলে যুবরাজ সালমানের মতো ব্যক্তিকেও যে সাজা পেতে হয়, সে বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’ গত শুক্রবার প্রকাশিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি অনেক আগেই তৈরি করা। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটি প্রকাশ করতে দেননি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সৌদি আরব বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কেনায় বিষয়টি একরকম ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আনলেন বাইডেন। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য