kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

মিয়ানমারে অভ্যুত্থান

আন্দোলন অব্যাহত, চলছে দমন-পীড়নও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আন্দোলন অব্যাহত, চলছে দমন-পীড়নও

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনকালে গতকাল ইয়াঙ্গুন থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি : এএফপি

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। অব্যাহত আছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘অসহযোগ’ কর্মসূচিও। বিক্ষোভ দমাতে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নও চলছে সমান তালে। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করেছে দাঙ্গা পুলিশ।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে মিয়ানমারের সরকারি হাসপাতালগুলোর অনেক চিকিৎসক কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সরকারি অফিসেও চলছে অচলাবস্থা। থিদা নামের এক প্রভাষক বলেন, ‘সামরিক বাহিনী চাচ্ছে এটা প্রমাণ করতে যে তারা দেশ পরিচালনা ও সরকার চালাতেও সক্ষম। এ ক্ষেত্রে আমরা যদি কাজ না করি, তাহলে তাদের ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।’

তিন সপ্তাহ ধরে পাঠদান থেকে বিরত আছেন থিদা। অনেক চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলীর মতো তিনিও এই ‘অসহযোগ’ আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। তবে এই আন্দোলনে যারা যুক্ত, তাদের অনেকেই গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে এমনিতেই অর্থনৈতিক মন্দায় রয়েছে মিয়ানমার। এর মধ্যে সরকারি কর্মীদের কর্মবিরতি জান্তা সরকারকে বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। তারা অবিলম্বে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের দমাতে ধরপাকড় কিংবা ইন্টারনেট বন্ধ করা থেকে শুরু করে গুলি চালানোর মতো কঠোর পদক্ষেপও নিচ্ছে জান্তা সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত চার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

গতকাল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে। এতে শহরে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে দাঙ্গা পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় দুজনকে।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য