kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

বাইডেন-সালমানের আলোচনায় সৌদি মানবাধিকার

দুই নেতার প্রথম ফোনালাপ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের ৮৫ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের ফোনালাপ হয়েছে। বাইডেনের শপথগ্রহণের পাঁচ সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজপরিবারের এই শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা হলো।

হোয়াইট হাউস ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে দুই নেতার ফোনালাপের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সৌদি বাদশাহ দুই দেশের গভীর সম্পর্কের ওপর জোর দেন এবং ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন।

হোয়াইট হাউস জানায়, বাদশাহ সালমান ও প্রেসিডেন্ট বাইডেন দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ের ওপর জোর দেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় সৌদি আরবকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি গুরুত্বের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র নেড প্রাইস গত বৃহস্পতিবার বলেন, ‘মানবাধিকার পরিস্থিতির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সৌদি আরবের আইন ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।’

সৌদি বাদশাহর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ফোনালাপটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দুই নেতার আলোচনায় খাশোগি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উঠেছিল কি না, তা কোনো পক্ষই জানায়নি।

বাইডেন তাঁর নির্বাচনী প্রচারাভিযানে খাশোগি হত্যার গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশের অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিবেদনটি চলতি সপ্তাহে প্রকাশের কথা জানা গিয়েছিল। সর্বশেষ গত শুক্রবার তা প্রকাশিত হওয়ার কথা জানায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। ওই প্রতিবেদনে খাশোগি হত্যার জন্য সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দায়ী করা হয়েছে।

২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক ও সৌদি নাগরিক খাশোগি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিআইএ) গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং তেলসম্পদের অন্যতম মজুদকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরব সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের বড় কৌশলগত মিত্র। সে কারণে খাশোগি ইস্যুতে বাইডেন প্রশাসনের পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কী হয়, তাতে সবার নজর রয়েছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা