kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে ঝামেলা মেটাচ্ছে তিন প্রতিবেশী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে ঝামেলা মেটাচ্ছে তিন প্রতিবেশী

চীন আর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বিরোধ যেখানে নিত্যদিনের খবরে পরিণত হয়েছিল, সেখানে তিন পক্ষই কাছাকাছি সময়ে দিল শান্তির বার্তা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন মার্কিন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি এখনো স্পষ্ট নয়। তাই বাড়তি ঝামেলা মিটিয়ে সবাই বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর ওই দেশটির পররাষ্ট্রনীতির প্রতি নজর দিয়ে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে চাচ্ছে। 

দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া ভারত বেশ চটজলদি সেরেছে। গত বৃহস্পতিবারই এসব ঘটনা ঘটে। এদিন ভারত ও পাকিস্তান যৌথ বিবৃতি দিয়ে জানায়, সীমান্তে আর কোনো গোলাগুলি চায় না তারা। এ লক্ষ্যে তারা ২০০৩ সালে হওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তিসহ সব সমঝোতা স্মারক মেনে চলার অঙ্গীকার করে।

একই দিন বিতর্কিত প্যাংগং হ্রদ এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেয় ভারত ও চীন উভয় পক্ষই। সেনা সরানোর পর নিজেদের মধ্যে টেলিফোনে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক করেন ভারত-চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয়। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা এলএসি) বরাবর এলাকার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।

ফোনালাপে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার বিষয়েও একমত হয়েছেন। যোগাযোগ রক্ষার জন্য তাঁরা একটি হটলাইন চালুর বিষয়েও সম্মত হয়েছেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে প্রায় ৭৫ মিনিট ধরে ফোনে কথা হয়।

এত অল্প সময়ে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বিরোধ মেটানোর অঙ্গীকার করা এবং এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এর মূলে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন। নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর পররাষ্ট্রনীতির পুরোটা এখনো স্পষ্ট করেননি। ফলে এশিয়ার ব্যাপারে চিন্তা এখনো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ভাবাচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিকে হাডসন ইনস্টিটিউটের ইনিশিয়েটিভ অন দ্য ফিউচার অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার পরিচালক অপর্ণা পাণ্ডে বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে ওঠার আশা করছে ভারত। আর এ অবস্থায় ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে পারলে পাকিস্তানে চাপের মুখে রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। তবে যুক্তরাষ্ট্র আসলেই চীনের সঙ্গে কতটা দ্বন্দ্বে জড়াবে আর সে ক্ষেত্রে কোন পক্ষ শক্তিশালী হয়ে উঠবে, সেটা ভারত নিশ্চিত হতে পারছে না। তাই আগেভাগে চীনের সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে নিয়েছে তারা। এতে সব দিক দেখেশুনে বুঝে ওঠার জন্য ভারত যথেষ্ট সময় পাবে এবং সেই সময়টা নিশ্চিত করার জন্যই ভারত সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন অপর্ণা পাণ্ডে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য