kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

খাশোগি হত্যার গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্র

‘সৌদি যুবরাজই দায়ী’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সৌদি আরবের নাগরিক ও সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে দায়ী করা হয়েছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে। গতকাল বৃহস্পতিবারই ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইসভেস্টিগেশনের (সিআইএ) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। শীর্ষ চার মার্কিন কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, এমবিএস খ্যাত যুবরাজ বিন সালমানের অনুমোদন নিয়ে ‘এবং সম্ভবত তাঁরই নির্দেশে’ এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে। ওই সূত্র জানায়, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সময় যুবরাজের ভাই খালিদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত ছিলেন, যিনি এখন সৌদি আরবের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী। ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেটে অবস্থানের সময় খাশোগিকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন তিনি। ওই সময় দুই ভাইয়ের মধ্যে ফোনকলের সূত্র ধরে গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করেছে সিআইএ।

প্রতিবেদনটি ২০১৮ সালে হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটি প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। ট্রাম্প প্রশাসন খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে শক্ত অবস্থান গ্রহণের পরিবর্তে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রতি নজর দিয়েছিল। কিন্তু জো বাইডেন তাঁর নির্বাচনী প্রচারে গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুসারে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসছে। হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রতিবেদনটি এরই মধ্যে পড়েছেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে খাশোগি তাঁর তুর্কি বাগদত্তাকে বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার পর লাশ কয়েক টুকরা করে নিশ্চি ডিগ্রি করে ফেলে। সৌদি আরবের আদালত এই হত্যার দায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে এই সাজা কমিয়ে প্রত্যেককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

খাশোগি একসময় সৌদি রাজতন্ত্রের অনুগত ছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে গিয়ে রাজপরিবারের একজন কট্টর সমালোচক হন। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত সৌদি রাজপরিবারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে নিবন্ধ লিখতেন।

সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য