kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধে আরেকবার একমত ভারত-পাকিস্তান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধে আরেকবার একমত ভারত-পাকিস্তান

কাশ্মীর ইস্যুতে ঐকমত্য না হলেও সীমান্তে পরস্পরের বিরুদ্ধে গোলাগুলি বন্ধে আরেক দফা একমত হয়েছে চিরবৈরী প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান। এই ঐকমত্যের ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার যৌথ বিবৃতিও জারি করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত বুধবার ভারতের সঙ্গে বৈরিতার কারণ অবলীলায় স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিতর্কের একমাত্র কারণ কাশ্মীর এবং একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই বিতর্কের সমাধান সম্ভব।’ শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বোয় অবস্থানকালে ইমরান ওই মন্তব্য করেন। আর আলোচনা এগিয়ে নিতে না পারার দায় ভারতের ওপর চাপিয়েছেন তিনি। ইমরানের অভিযোগ, তিনি ক্ষমতায় বসার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তবে এক দিন আলোচনার মধ্য দিয়েই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে প্রত্যয়ী ইমরান খান।

আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যুর সমাধানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় প্রত্যাশা জানানোর পরদিনই সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধে যৌথ বিবৃতি আসে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভারত ও পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর মধ্যে এক প্রস্ত বৈঠকের পর জানানো হয়, যাবতীয় মৈত্রীচুক্তি, সমঝোতা মেনে চলবে দুই দেশের সেনাবাহিনী। এই মর্মে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দুই দেশের শান্তি রক্ষার স্বার্থে এবং হিংসাকে প্রতিহত করতেই এই সিদ্ধান্ত।

২০০৩ সালে সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র বিরতি কার্যকরে একমত হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। কিন্তু সেই ঐকমত্য শুধু খাতা-কলমেই রয়ে গেছে। প্রায়ই দুই দেশের সীমান্তে গোলাগুলি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তোলে।

গতকালের বৈঠকের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভারত এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপারেশনাল প্রধানরা প্রতি বৃহস্পতিবার একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। গতকাল নিয়মিত বৈঠকেই সংঘর্ষ বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, গত বছর সীমান্তে পাঁচ হাজার ১৩৩ বার অস্ত্র বিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান এবং এতে ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ ছাড়া চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সীমান্তে গুলি চলেছে ২৯৯ বার। এই মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন একজন।

বিগত কয়েক বছরে ভারত-পাক সম্পর্ক দৃশ্যত তলানিতে। ২০১৬ সালে ভারতের পাঠানকোটে বিমানবাহিনীর ছাউনিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর দুই দেশের সম্পর্কের আরো অবনতি হয়। এই ঘটনার ঠিক তিন বছর পর পুলওয়ামায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালায় জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদ। ওই ঘটনায় ৪০ ভারতীয় জোয়ান নিহত হয়।

২০১৯ সালে ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির পর দুই দেশের সম্পর্কের আরো অবনতি হয়। সীমান্তে বাড়তে থাকে জঙ্গি হামলার ঘটনা। এর মধ্যেই গত বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আলোচনার মধ্য দিয়েই কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দেন। পরদিন আসল দুই দেশের সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য