kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ

তিন বিক্ষোভকারী নিহত এক দিনে

‘প্রাণঘাতী’ সামরিক সরকারের নিন্দা জাতিসংঘের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিন বিক্ষোভকারী নিহত এক দিনে

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে গতকাল ইয়াঙ্গুনে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে গণতন্ত্রপন্থীরা। ছবি : এএফপি

মিয়ানমারে গণতন্ত্রের দাবিতে চলমান আন্দোলনে সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন ছিল গত শনিবার। এদিন দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন দুই বিক্ষোভকারী। পুলিশের গুলিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে ইয়াঙ্গুনে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলে আসা আন্দোলনে এ নিয়ে চার বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হলো।

বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোয় জান্তা সরকারের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, বিক্ষোভ দমাতে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে ফেসবুক থেকে জান্তা সরকার পরিচালিত একটি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফেসবুক জানিয়েছে, সংবাদ প্রকাশের নীতিমালা লঙ্ঘন করায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে মান্দালয় পোতাশ্রয়ের (শিপইয়ার্ড) অনেক কর্মীও সম্পৃক্ত আছেন। তাঁদের আটক করতে শনিবার পোতাশ্রয়ে অভিযান চালান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সেখানে তাঁরা বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে গুলি ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। এতে মাথায় গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে আরেকজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালে। এ ঘটনায় আহত হয় অন্তত ৩০ বিক্ষোভকারী। এর বেশির ভাগের শরীরেই গুলি লেগেছে।

এই দুজনের মৃত্যুর বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত জান্তা সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্টো রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে শনিবার পৃথক ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম তিন তুত হেইন (৩০)। তুতের শ্যালিকা বলেন, ‘রাতের বেলায় পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের ধরে নিয়ে যায়। তাই রাতে পুলিশের গতিবিধির দিকে নজর রাখা হয়। শনিবার রাতে টহলের দায়িত্বে ছিলেন তুত হেইন, কিন্তু পুলিশ তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছে।’

এ নিয়ে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে চারজনের মৃত্যু হলো। প্রথম মৃত্যু ঘটে গত শুক্রবার। ওই দিন হাসপাতালে মারা যান ২০ বছরের তরুণী মাইয়া থি থি খায়িং। গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানী নেপিডোতে বিক্ষোভের সময় তাঁর মাথায় গুলি লেগেছিল। গতকাল থি থি খায়িংয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তাতে অংশ নিয়েছিল কয়েক হাজার মানুষ।

বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘জান্তা সরকারের এই কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উয়িন মিন্টসহ ‘ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি’র (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। তারা অবিলম্বে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের দমাতে ধরপাকড় কিংবা ইন্টারনেট বন্ধ করা থেকে শুরু করে গুলি চালানোর মতো কঠোর পদক্ষেপও নিচ্ছে জান্তা সরকার।

তবে দমন-পীড়ন কিংবা প্রাণহানির পরও দেশটির বিভিন্ন শহরে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকালও নেপিডো, ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়সহ কয়েকটি শহরের রাজপথে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।