kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

বাইডেনের মন পেতে সৌদি আরবের যত চেষ্টা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাইডেনের মন পেতে সৌদি আরবের যত চেষ্টা

ছবি : ইন্টারনেট

সৌদি আরবের ব্যাপারে নতুন মার্কিন প্রশাসন যেভাবে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, তাতে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, অতিমাত্রায় কঠোরতা কিংবা ছাড় দেওয়ার পরিবর্তে মাঝামাঝি একটি পথ অবলম্বন করছেন জো বাইডেন। কিন্তু সৌদি আরব কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। অন্যতম এই বিশ্বশক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক নিশ্চিত করতে রিয়াদ সরকার নানা পদক্ষেপ তো নিচ্ছেই, ঝালিয়ে নিতে শুরু করেছে আঞ্চলিক সম্পর্কগুলোও।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশ আলগা করে দেওয়ায় সৌদি আরব সংস্কারের নামে দেশে ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। পররাষ্ট্রনীতিতেও রিয়াদ ছিল বেশ আক্রমণাত্মক। ফলে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি ও পররাষ্ট্রনীতি দুটিই ভীষণ সমালোচিত হতে থাকে। মার্কিন প্রশাসনে পরিবর্তন আসার সঙ্গে সঙ্গে সুর পাল্টে ফেলেছে রিয়াদ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় বাইডেন সৌদি আরবকে একঘরে করে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন। গত ২০ জানুয়ারি তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। বাইডেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে না নিতেই তার আগের হুমকি আমলে নেয় সৌদি সরকার। কারাবন্দি বেশ কয়েকজন মানবাধিকারকর্মীকে এরই মধ্যে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে তারা। ইরানের সঙ্গে শত্রুতার জেরে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল সৌদি আরব। প্রতিবেশীর সঙ্গে মিত্রতা পুনঃস্থাপনের কাজও সেরে ফেলেছে তারা। এ ছাড়া সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আঙ্কারার সঙ্গে বৈরিতা তৈরি হয়ে আছে, সেটাও মিটিয়ে নিতে চাচ্ছে রিয়াদ। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) মিত্র দেশের কাতারে রয়েছে তুরস্ক।

ভেতরে-বাইরে এসব পরিবর্তন আনার জন্য সৌদি আরবের চটজলদি চেষ্টার কারণ সম্পর্কে বিশ্লেষক ক্রিস্টিন দিওয়ান বলেন, ট্রাম্পের আমলের জটিলতা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চাচ্ছে, পর্যালোচনা করছে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কও। এ অবস্থায় সৌদি সরকার ঘরোয়া ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা দূর করার জন্য নিচ্ছে নানা পদক্ষেপ।

এদিকে ইয়েমেনে সৌদি হামলা বন্ধ করার পাশাপাশি সৌদি আরবের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বাইডেন। মার্কিন সেনাবাহিনী এরই মধ্যে সৌদি আরবে উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের গত মাসের এক প্রতিবেদনে অবশ্য বলা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে ঝামেলা মেটাতে চাইলেও দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে জড়ানোর আশঙ্কাই প্রবল। ওই দ্বন্দ্ব যুদ্ধ পর্যন্ত গড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে শক্ত ঘাঁটি বানানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

বাইডেন প্রশাসনের তৎপরতার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সৌদি লেখক ও বিশ্লেষক আলী শিহাবি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করবেন বাইডেন ও তাঁর প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতাদের খুশি রাখার চেষ্টা যেমন চলবে, তেমনই সৌদি আরবের ওপর পরোক্ষ চাপ বজায় রাখা হবে। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা