kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

ফের আলোচনার টেবিলে ট্রাম্পের অভিশংসন ইস্যু

সিনেটে প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফের আলোচনার টেবিলে ট্রাম্পের অভিশংসন ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যোবিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন ইস্যুটি ফের দৃশ্যপটে আনতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। অভিশংসনের ফাইলটি গতকাল সোমবারই মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানোর কথা। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার ও ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের অভিশংসন ইস্যুতে মাঝপথে থেমে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁদের নেই। অন্যদিকে অনেক রিপাবলিকান নেতা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কিংবা সাংবিধানিক কোনো প্রক্রিয়াতেই পুরনো ‘কাসুন্দি’ ঘাঁটতে চান না তাঁরা।

২০ জানুয়ারি জো বাইডেনের হাতে ক্ষমতা ছাড়েন ট্রাম্প। এর আগে গত ৬ জানুয়ারি তাঁর ‘আহ্বানে’ মার্কিন কংগ্রেস ভবনে নজিরবিহীন হামলা চালায় তাঁর উগ্র সমর্থকরা। তাতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত হয় পাঁচজন। এরপর সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অভিশংসনের প্রস্তাব ওঠে। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার মধ্যে দিয়ে প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় দফায় অভিশংসিত হন ট্রাম্প। অভিশংসনের প্রস্তাবটি সিনেটে পাস হলে ২০ জানুয়ারির আগেই ক্ষমতা ছাড়তে হতো তাঁকে। কিন্তু ২০ জানুয়ারির আগে অভিশংসন নিয়ে ভোটাভুটির আয়োজন করতে অস্বীকৃতি জানান সিনেটপ্রধান। ফলে স্বাভাবিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ পান ট্রাম্প।

জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহ না পেরোতেই আবার অভিশংসন ইস্যুটি সামনে আনলেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। গত সপ্তাহে পেলোসি বলেন, অভিশংসনের ইস্যুটির মীমাংসা হওয়া উচিত। এরপর গত রবিবার তিনি জানান, অভিশংসনের প্রস্তাবটি সিনেটে পাঠানো হবে। আর গতকাল সোমবারই সেটি পাঠানোর কথা। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই সিনেটের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পেলোসি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই সিনেট পর্যন্ত যাব।’

১০০ সদস্যের সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে। বর্তমানে ডেমোক্র্যাট দল থেকে নির্বাচিত সিনেটর আছেন ৫০ জন। এ অবস্থায় ট্রাম্পকে অভিশংসিত করতে হলে আরো ১৭ রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন লাগবে। সেটি পাওয়ার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রিপাবলিকান নেতা মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, ‘অভিশংসন নিয়ে সিনেটে ভোটাভুটির কোনো মানে হয় না। এটা ফলপ্রসূ কোনো পদক্ষেপ হতে পারে না। আমাদের রাজনীতিতে এরই মধ্যে বড় রকমের বিভাজন তৈরি হয়েছে। সেখানে অভিশংসন ইস্যুটি আবার সামনে আনলে সেই বিভাজন আরো বেড়ে যাবে।’ যদিও ৬ জানুয়ারির ঘটনায় ট্রাম্পের কিছুটা হলেও দায় আছে বলে মনে করেন মার্কো রুবিও।

অনেক রিপাবলিকান সিনেটর মনে করেন, ট্রাম্প এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ একজন নাগরিক। তাঁর বিচার করার আইনি কোনো অধিকার সিনেটের নেই। এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান সিনেটর মাইক রাউন্ডস বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের বিচার করা সিনেটের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।’  

ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক ও রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি অবশ্য মনে করেন, ক্ষমতা ছাড়লেও ট্রাম্পের বিচার করার অধিকার সিনেটের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের ভূমিকা অভিশংসন করার মতো কি না, সেটাই এখানে সবচেয়ে বড় বিবেচনার বিষয়।’

আইন অনুযায়ী, সিনেটে অভিশংসিত হলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সেখানে আরেকটি ভোটাভুটির আয়োজন করা হবে। তাতেও যদি বিপক্ষে ভোট পড়ে, তাহলে ট্রাম্প ভবিষ্যতে সরকারি কোনো পদে বসতে পারবেন না। আরেকবার প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করার স্বপ্নও শেষ হয়ে যাবে তাঁর। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা