kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

মোদির সঙ্গে নেতাজি মঞ্চে

‘অপমানে’ বক্তব্য দিলেন না মমতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘অপমানে’ বক্তব্য দিলেন না মমতা

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীতে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে এক মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক মঞ্চে দেখা এমনিতেই বিরল ব্যাপার। সেই বিরল ঘটনার মধ্যে সৃষ্টি হয় এক অঘটনের। অরাজনৈতিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক স্লোগানে ক্ষুব্ধ হয়ে মমতা পোডিয়ামের সামনে গিয়েও বক্তব্য না দিয়ে ফিরে আসেন। পরে মোদি তাঁকে বোন ডাকলেও মেঘ কাটেনি।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ভিক্টোরিয়া ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে আমন্ত্রিতদের মধ্যে ছিলেন মমতা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মমতাকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় মমতা মঞ্চের চেয়ার ছেড়ে পোডিয়ামের দিকে এগোতেই সামনের সমবেত জনতার একাংশ ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হন মমতা। সেই ক্ষোভ গোপন করেননি তিনি, বরং শালীন ভাষায় প্রকাশ করে দিয়েছেন। ক্ষুব্ধ মমতা পোডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে হিন্দিতে বলেন, ‘আমার মনে হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের একটা শালীনতা থাকা উচিত। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়। এটা সব দলেরই কর্মসূচি। জনতার কর্মসূচি।’

এখানেই থামেননি তৃণমূল নেত্রী। তিনি আরো বলেন, “আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ, কিন্তু কাউকে আমন্ত্রণ করে অসম্মান (মমতা ‘বেইজ্জত’ শব্দটি ব্যবহার করেন) করাটা শোভনীয় নয়। এর প্রতিবাদে আমি এখানে কিছু বলছি না।” ‘জয় হিন্দ! জয় বাংলা’! এটুকু বলেই মমতা পোডিয়াম ছেড়ে গিয়ে নিজের আসনে বসেন। মমতার পরই ভাষণ দেন মোদি। শুরুতেই তিনি মমতাকে ‘বোন’ অভিহিত করেন। তবে অনুষ্ঠানে কেটে যাওয়া সুর তাতে ফিরে আসেনি।

এদিকে নেতাজির জন্মজয়ন্তীর আরেক অনুষ্ঠানে ভারতে একাধিক রাজধানী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিনির্ভরতা কাটাতে কলকাতাসহ দেশের চার প্রান্তে চারটি রাজধানী হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাকি তিনটি প্রস্তাবিত রাজধানীর অবস্থান হিসেবে উত্তর, দক্ষিণ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কথা বলেছেন তিনি।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার নেতাজির জন্মদিনকে তাঁর নামে নামকরণ না করে ‘পরাক্রম দিবস’ করায় সেটারও সমালোচনা করেন মমতা। দিনটিকে জাতীয় দিবস ঘোষণা এবং নেতাজির নামে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবিও জানান তিনি। এদিকে তৃণমূলের পার্লামেন্ট সদস্য নুসরত জাহান টুইট করেছেন, ‘নেতাজির জন্মজয়ন্তীর সরকারি অনুষ্ঠানে ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার তীব্র নিন্দা করছি। রাম নাম বলা হোক একে অন্যকে আলিঙ্গন করে, গলা টিপে নয়।’ সূত্র : এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা