kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাঙ্গনে ফেরাবেন বাইডেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাঙ্গনে ফেরাবেন বাইডেন

অভিষেক অনুষ্ঠানের পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন সপরিবারে লিংকন মেমোরিয়ালে যান। ‘সেলিব্রেটিং আমেরিকা’ শীর্ষক আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট দম্পতি সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের স্মৃতিসৌধে যান। ছবি : এএফপি

অভিষেকের প্রথম দিনই ঘরোয়া সমস্যা সমাধানে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাঙ্গনের হারানো আস্থা ফেরাতেও তিনি যে শিগগির জোরেশোরে মাঠে নামছেন, সেটা নিয়ে পর্যবেক্ষদের কোনো দ্বিমত নেই। কারণ বাইডেন তাঁর অভিষেক বত্তৃদ্ধতায় তেমন বার্তাই দিয়েছেন।

পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির শুরু থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নের নামে তিনি দ্রুতই চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন। করোনাভাইরাস মহামারির মতো স্পর্শকাতর সময়েও তিনি চীনের বিরুদ্ধে অনবরত উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন। এমনকি ক্ষমতা ছাড়ার আগমুহূর্তে তিনি চীনকে আরেক দফা উসকে দেওয়ার জন্য তাইওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেন। উইঘুরদের ওপর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আচরণকে তিনি জেনোসাইড আখ্যা দিয়ে যান। চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব আরো তীব্র করে ক্ষান্ত হননি ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে বেশির ভাগ মার্কিন মিত্রকে শত্রু বানিয়ে ছেড়েছেন তিনি।

ট্রাম্পযুগের ইতি ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার বাইডেন আগেই করেছেন। প্রেসিডেন্সি গ্রহণের আগেই তিনি নিশ্চিত করেছেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরাবেন। ইরানের পরমাণুচুক্তিতে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। মিত্র দেশগুলোর চরম বিরোধিতা আর সমালোচনা সত্ত্বেও এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি থেকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন।

ওই সব চুক্তিতে ফেরার পাশাপাশি মিত্রদের সঙ্গে আগের সম্পর্কে ফিরতে বাইডেন যে আগ্রহী, গত বুধবার তা অনেকটাই স্পষ্ট করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বাঙ্গনে আবার ফিরবে যুক্তরাষ্ট্র, সেই সঙ্গে মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করবে।

বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের প্রতিনিধির আমন্ত্রণও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। ৪২ বছর পর তাইওয়ানের কোনো প্রতিনিধি মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পান। ১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধে চীন থেকে আলাদা হয়ে যায় তাইওয়ান। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে ১৯৭৯ সাল থেকে মার্কিন প্রশাসন তাইওয়ানের সঙ্গে রক্ষণশীল আচরণ করে আসছে। ওই সময়ের পর গত বুধবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তাইওয়ানের রাষ্ট্রদূতকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলো।

তাইওয়ান ইস্যুতে নতুন মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান খানিকটা স্পষ্ট হলেও বাইডেন কিন্তু এখনো পররাষ্ট্রনীতি খোলাসা করেননি। তা সত্ত্বেও ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র : সিএনএন, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা