kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

ইতিহাস সৃষ্টির পর যাত্রা শুরু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইতিহাস সৃষ্টির পর যাত্রা শুরু

ব্যক্তি হিসেবে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন, নিজের শিকড় নিয়েও সৃষ্টি করেছেন আলোচনা, এবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদকেও নতুন করে আলোচনায় আনতে যাচ্ছেন কমলা হ্যারিস, এমন প্রত্যাশা করছেন পর্যবেক্ষকরা। শুধু প্রথম নারী হিসেবেই নয়, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নিয়েছেন ৫৭ বছর বয়সী কমলা।

কমলার জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে, অভিবাসী দম্পতির সংসারে। মা শ্যামলা গোপালান হ্যারিস ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বাবা ডোনাল্ড হ্যারিস জ্যামাইকান। কমলার বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন শ্যামলা ও হ্যারিসের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মায়ের কাছেই বড় হন কমলা ও ছোট বোন মায়া।

আত্মজীবনীতে কমলা লিখেছেন, ‘আমার মা এটা জানতেন যে তাঁর দুই সন্তান কৃষ্ণাঙ্গ। তিনি এটাও বুঝতেন যে ভারতীয়রা তাঁর দুই মেয়েকে কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবেই মূল্যায়ন করবে। এ কারণে তিনি আমাদের এমনভাবে মানুষ করেছেন, যাতে করে আমরা দুই বোন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে গর্ববোধ করি।’

কমলার জীবনের বদলে যাওয়া অধ্যায়ের শুরু ব্ল্যাক হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে ডিপ্লোমা করার মধ্য দিয়ে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেধার বলে দুই মেয়াদে সান ফ্রান্সিসকো ডিস্ট্রিকের অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছে তিনি। কমলা ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাটর্নি জেনারেল। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ান বংশোদ্ভূতদের মধ্যে তিনিই প্রথম নারী, যিনি মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। আর আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট।

অনেক ‘প্রথম’-এর জন্ম দেওয়া কমলার ঘিরে প্রত্যাশাও অনেক, যদিও ইতিহাস বলে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব খুব বেশি নয়। তবে ইতিহাস এটাও বলছে, কোনো দুর্বিপাকে ভাইস প্রেসিডেন্টই হয়ে ওঠেন ভরসার একমাত্র জায়গা। এই যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ জন প্রেসিডেন্টের মধ্যে আটজন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মারা গেছেন। একজন মেয়াদের আগেই দায়িত্ব ছেড়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্টকে হঠাৎ পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনাও আছে।

ইতিহাস যা-ই বলুক কমলার আসন যে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেই। বাইডেন প্রশাসনে যাঁদের বাছাই করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ব্যাপারে তিনি প্রথমে কমলা হ্যারিসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এরপর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাইডেনের মনোনীত মন্ত্রিসভার প্রত্যেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কমলা। তাঁকে বাইডেন নিজেই বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কমলাই হবেন শেষ ব্যক্তি, যাঁর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট কথা বলবেন।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নিজে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বাইডেন যে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন, কমলাকেও সেই একইভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেবেন বাইডেন। আরো ধারণা করা হচ্ছে, আইনজীবী হিসেবে কমলার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীর সংস্কারে ভূমিকা রাখবে। মার্কিন পুলিশের অসদাচরণের পরিপ্রেক্ষিতে এই বাহিনী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাইডেনই দিয়েছেন।

শুধু সংস্কারের প্রশ্নে নয়, জাতির যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে মার্কিনরা ভাইস প্রেসিডেন্টকে তাদের কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে দেখতে চায়। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা