kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

ডেলাওয়ার থেকে হোয়াইট হাউস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেলাওয়ার থেকে হোয়াইট হাউস

কখনো মিথ্যাচারের অভিযোগে, কখনো নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার কারণে, কখনো প্রিয়জন হারানোর বেদনা নিয়ে বারবার রাজনীতির রেসে পেছনে পরে গেছেন। একবার তো ভেবেছিলেন, রাজনীতি ছেড়েই দেবেন। শেষটা কিন্তু একদম অন্য রকম। সব ঝঞ্ঝাট পেরিয়ে সেই জো বাইডেন আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

সব ছেড়েছুড়ে আড়ালে চলে যেতে যেতেও বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যে বেড়ে ওঠা জোসেফ রবিনেট বাইডেন। আজ তিনি যেখানে এসে দাঁড়িয়েছেন, সেখানকার স্বপ্নটা অবশ্য তিনি দেখেছেন অর্ধশতকেরও বেশি সময় আগে। এত ঝড়ঝাপটা সামলে, এত পথ পাড়ি দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানো বাইডেনের জীবন অল্প কথায় তুলে ধরতে গিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু টেড কাফম্যান বলেন, ‘আমার দেখা মানুষগুলোর মধ্যে সে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান এবং সে-ই সবচেয়ে দুর্ভাগা!’

বাইডেনের শুরুর সময় সম্পর্কে তাঁর প্রথম স্ত্রী নেইলিয়া হান্টার তাঁদের বিয়ের আগে ১৯৬৪ সালে এক বান্ধবীকে বলেছিলেন, ‘৩০ বছর বয়সের মধ্যে সে (বাইডেন) সিনেটর হতে চায় এবং একদিন সে দেশের প্রেসিডেন্ট হবে।’ কাউন্টি কাউন্সিলম্যানের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭২ সালে ডেলাওয়ার থেকে নির্বাচিত হয়ে সিনেটর হওয়ার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন বাইডেন। সে বছরই সড়ক দুর্ঘটনায় হারান প্রথম স্ত্রী নেইলিয়া ও শিশুকন্যা নেওমিকে। সাফল্যের চেয়ে বেদনাই বড় হয়ে বাজে তাঁর বুকে।

‘প্রমিজ টু কিপ’ শীর্ষক স্মৃতিকথায় বাইডেন লিখেছেন, স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে তখন তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন, এমনকি ভেবেছিলেন আত্মহত্যার কথাও। জীবনের সেই ভঙ্গুর মুহূর্তে তাঁর পাশে দাঁড়ান জিল ট্রেসি। ১৯৭৭ সালে তাঁরা বিয়ে করেন।

প্রচণ্ড ঘাড় ব্যথায় কাবু হয়ে ১৯৮৮ সালে অস্ত্রোপচারে মধ্য দিয়ে যেতে হয় বাইডেনকে। সে সময় তাঁর মুখের পেশি কিছু সময়ের জন্য অসাড় হয়ে পড়েছিল। সে বছরই তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নেমে বত্তৃদ্ধতা কেলেঙ্কারির জন্ম দেন। অন্যের বক্তব্য নিজের বলে চালিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ২০০৮ সালে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রার্থিতা পাওয়ার লড়াইয়ে নামেন তিনি, কিন্তু বারাক ওবামার কাছে হেরে যান। পরে ওবামা প্রস্তাবে রাজি হয়ে তাঁর রানিং মেট হয়ে আট বছর ভাইস প্রেসিডেন্সি সামলান বাইডেন।

২০১৫ সালে বাইডেনের বড় ছেলে ক্যান্সারে মারা গেলে আরেক দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি থেকে পিছু হটেন তিনি। সে সময় তাঁর ফিরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখেননি কেউ। এর পরও যখন তিনি ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে দলীয় মনোনয়ন পেলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে ‘স্লিপি জো’ বলে বারবার ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দিতে থাকেন, বাইডেনে বয়স ৭৭। সেই স্লিপি জো-ই ৭৪ বছর বয়সী ‘তরুণ’ ট্রাম্পকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করে আজ হোয়াইট হাউসের কর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি বয়স্ক প্রেসিডেন্ট তিনিই। আর তাঁর সঙ্গে আছেন দেশটির ইতিহাসের প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা