kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

মস্কোয় পা রাখামাত্রই গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ড

নাভালনির মুক্তির আহ্বান

পাঁচ মাস আগে বিষ প্রয়োগে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নাভালনি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাভালনির মুক্তির আহ্বান

মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দর থেকে আটক করে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

২০১৪ সালের জালিয়াতির মামলায় স্থগিত দণ্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে মস্কোয় পা রাখা মাত্র অ্যালেক্সি নাভালনিকে গ্রেপ্তার করা হবে—রাশিয়ার কারা বিভাগ আগেই ঘোষণা দিয়েছিল। সে অনুযায়ী রবিবার জার্মানির বার্লিন থেকে মস্কোর শেরেমেতিয়েভা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই গ্রেপ্তার হন বিরোধী এই নেতা। গতকাল সোমবার নাভালনিকে প্যারোলের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একটি পুলিশ স্টেশনে তড়িঘড়ি ওই আদালত বসিয়ে শুনানির আয়োজন করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাঁর গ্রেপ্তারের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ৪৪ বছর বয়সী নাভালনি। পাঁচ মাস চিকিৎসার পর দেশে ফিরলেন তিনি। গত বছরের আগস্টে সাইবেরিয়ার টমসক শহর থেকে মস্কোয় ফেরার পথে উড়োজাহাজে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর ওপর সোভিয়েত আমলে তৈরি নার্ভ এজেন্ট ‘নোভিচক’ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে রাশিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

নাভালনির আইনজীবী ভাদিম কোবজেভ আদালত থেকে টুইট বার্তায় জানান, নাভালনিকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও অভিযোগ করে বলেছেন, রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ সমালোচকদের স্তব্ধ করতে চাইছে। নাভালনির তাত্ক্ষণিক ও শর্তহীন মুক্তি দাবি করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানও প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘নাভালনির ওপর ক্রেমলিনের চড়াও হওয়া শুধু মানবাধিকারের লঙ্ঘন নয়, রুশ জনগণের যে অংশ তাঁর কথা শুনতে চায় তাদেরও অপমান করা।’

নাভালনিকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল। এ ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য অভিহিত করে তিনি নাভালনিকে দ্রুত মুক্তি দিতে রুশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাভালনির গ্রেপ্তারে নিন্দা-উদ্বেগ জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, নাভালনিকে গ্রেপ্তারের খবর খুবই উদ্বেগের। ভয়াবহ অপরাধের শিকার এক ব্যক্তিকে অত্যাচার না করে কিভাবে তাঁর ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহৃত হলো, কর্তৃপক্ষের উচিত তা তদন্ত করে দেখা।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, বার্লিন থেকে নাভালনিকে বহনকারী উড়োজাহাজটির মস্কোর আরেকটি বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। নাভালনিকে দেখতে সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছিল। কিন্তু উড়োজাহাজটি সেখানে না গিয়ে মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর পরপরই নাভালনিকে গ্রেপ্তার করে রুশ পুলিশ।

নাভালনি ও তাঁর সহযোগীরা রুশ কর্তৃপক্ষের এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করছেন।

সাইবেরিয়া থেকে মস্কো ফেরার পথে উড়োজাহাজে অসুস্থ হওয়ার পর নাভালনিকে প্রথমে সাইবেরিয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে নেওয়া হয় বার্লিনে। তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন।

নাভালনিকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে জানান চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের দাবি, নাভালনিকে ‘নোভিচক’ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

নাভালনি ও তাঁর সহযোগীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশেই তাঁকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।   সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা