kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

ইউরোপের আস্থা ফেরানোও বাইডেনের চ্যালেঞ্জ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউরোপের আস্থা ফেরানোও বাইডেনের চ্যালেঞ্জ

প্রেসিডেন্সির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার জন্ম দিয়ে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র পেরিয়ে সুদূর ইউরোপের বুকেও তৈরি করেছেন এক গভীর ক্ষত। আঘাতে জর্জরিত ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে অনেক সময় নেবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি—সব প্রশ্নে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ক ট্রাম্পের আমলে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কয়েক দশক পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

ইউরোপীয় এক কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের মনে হয়েছে, ট্রাম্প ইউরোপকে শত্রু হিসেবেই দেখেছেন। (ট্রাম্পের) আমেরিকা ফার্স্ট নীতির সুদূরপ্রসারী প্রভাবের জেরে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু এখন হাতে গোনা।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বাঙ্গনে নানা সংকট সমাধানে ইউরোপ যতটা এগিয়েছিল, সেসব অগ্রগতিকে এক এক করে পিছিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের পরমাণু চুক্তি ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন ওই ইইউ কর্মকর্তা।

ট্রাম্পের এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ইউরোপ যে তাঁর প্রশানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, সেটা বুঝেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও শেষ মুহূর্তে তাঁর ইউরোপ সফর বাতিল করেন—এমনটা মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের পররাষ্ট্র কর্মকর্তা ও ইউরোপ বিষয়ক বিশ্লেষক টাইসন বার্কার বলেন, পম্পেওর ইউরোপ সফর যে সুখকর কিছু হতো না, সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কারণ ইউরোপের বহু প্রতিষ্ঠান ও কূটনীতিক ট্রাম্প প্রশাসনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। টাইসন এটাও বলেন, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার জন্য ইউরোপ যে মুখিয়ে আছে, সেটা মোটেও গোপন কিছু নয়।

বার্কারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। তাঁরা মনে করছেন, বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর আগে অতীতের অনেক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেবে ইউরোপ। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ইউরোপ ও ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক বিষয়ক প্রকল্পের পরিচালক ক্যাথরিন ক্লুভার অ্যাশব্রুক বলেন, ইউরোপীয় সম্পর্কটা পাল্টে গেছে এবং সেই সম্পর্ক এখন ‘সন্দেহের চাদরে মোড়ানো’। এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কের যতটা ক্ষতি করেছিলেন, সেটার তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতি করেছেন ট্রাম্প। বিদায়ি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বদা আগ্রাসী পদক্ষেপ ইউরোপের জীবন, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সংস্কৃতি—এমনকি আবেগেও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। এসব কারণে ইউরোপ এবার আসন্ন মার্কিন প্রশাসনকে স্বাগত জানাবে কি না, তা বোঝা যাচ্ছে না। অথচ ট্রাম্পের পূর্বসূরি ওবামাকে সাদরে বরণ করে নিয়েছিল।

বিভিন্ন ইউরোপীয় কূটনীতিকের অভিমতের ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমেরিকার প্রতি আস্থা হারিয়েছে ইউরোপ। আর বিশ্লেষক ক্লুভার বিশ্বাস করেন, ট্রাম্পের অননুমেয় কর্মকাণ্ড আর যুক্তরাষ্ট্রের ধসে পড়া আমলাতন্ত্রের কারণে শুধু ইউরোপে নয়, বিশ্বজুড়ে আমেরিকার প্রভাব কমে গেছে। সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা