kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৬৭ মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী  ভূমিকম্পে ৬৭ মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ায় গতকাল শক্তিশালী ভূমিকম্পে সুলাওয়েসি দ্বীপের মামুজু শহরে বিধ্বস্ত এক ভবনে উদ্ধার তৎপরতা। ছবি : এএফপি

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি হাসপাতালসহ আরো অনেক ভবন ধসে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে একটি ছোট্ট কম্পন অনুভূত হয়। এরপরই ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে দ্বীপটিতে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত দ্বীপের মামুজু শহরে সবচেয়ে বেশি। সংখ্যাটি ২৬ বলে জানান স্থানীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বিষয়ক সরকারি কর্মকর্তা আলী রহমান। তা ছাড়া ভূমিকম্পে ছয় শতাধিক আহত হয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল দক্ষিণ মামুজু শহর থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ কিলোমিটার গভীরে।

২০১৮ সালে সুলাওয়াসিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। সেবারের অভিজ্ঞতার কারণে এ ভূমিকম্পের পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থার প্রধান আলী রহমান জানান, তিনি ধারণা করছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেক মরদেহ পাওয়া যাবে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থা আলাদাভাবে জানায়, পশ্চিম সুলাওয়েসির দক্ষিণ মামুজু শহরে আরো আটজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৪২ জনে দাঁড়িয়েছে।

সম্পূর্ণ ধসে যাওয়া মামুজু হাসপাতালের রোগী ও কর্মীদের খোঁজে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা। মামুজু শহরের একজন উদ্ধারকর্মী আরিয়ান্তো জানান, হাসপাতালটি একদম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। হাসপাতালে হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা না জানা গেলেও তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপে আটকে পরা সবাইকে উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা একটি ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া বাড়ির একই পরিবারের আট সদস্যকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। শহরটির বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো জানায়, ভূমিকম্পে একটি হোটেলের আংশিক ধসে গেছে। আঞ্চলিক গভর্নরের দপ্তর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মামুজুর বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী হেন্দ্রা বলেন, ‘শহর প্রায় ধ্বয়ংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে, বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পটি অনেক শক্তিশালী ছিল। আমি ঘুম থেকে উঠেই আমার স্ত্রীকে নিয়ে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছি।’

শহরের অনেক অধিবাসী গাড়ি ও মোটরসাইকেলে করে উপকূলীয় এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। শহরটি এখন প্রায় জনশূন্য। আবহাওয়া সংক্রান্ত সংস্থা এলাকাবাসীকে ভূমিকম্প-পরবর্তী কম্পন ও সুনামির ব্যাপারে আগাম সতর্ক করায় শহরটির এমন চিত্র। আবহাওয়া সংস্থাটির প্রধান দিকোরিতা কর্ণবতী জানান, সকালের ভূমিকম্পের চেয়ে পরবর্তী কম্পনগুলো আরো শক্তিশালী হতে পারে এবং এসব কম্পনের ফলে সুনামিও হতে পারে। তাই সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর সতর্কবার্তায় এলাকাবাসী আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরে ‘রিং অব ফায়ার’ খ্যাত জায়গায় টেকটোনিক প্লেটগুলোর প্রতিনিয়ত সংঘর্ষের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতজনিত সমস্যা চলতেই থাকে। সূত্র : এএফপি ও বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা