kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সত্যি পেতে চলেছি কভিডমুক্ত জীবন?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সত্যি পেতে চলেছি কভিডমুক্ত জীবন?

কভিডের প্রতিষেধক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের আশাবাদ আর শক্তিশালী সরকারগুলোর ব্যাপক পদক্ষেপ মানুষকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে, আমরা হয়তো শিগগির কভিডপূর্ব জীবনে ফিরতে পারব, ছুড়ে ফেলতে পারব স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা। কিন্তু সেই জীবন কতটা বাস্তব আর সেই লক্ষ্য অর্জন কতটা কাছে বা দূরে, সেসব নিয়ে আছে বিস্তর আশঙ্কা ও আলোচনা।

অতীতে বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের কার্যকর টিকা আবিষ্কার হতে দশকের পর দশক লেগেছে। এমন অনেক রোগ আছে, যেগুলো থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে প্রতিবছরই টিকা দিতে হয়। সেসব রোগ আর টিকার বিবেচনায় এক বছরেরও কম সময়ে কভিড-১৯ রোগের টিকা আবিষ্কার এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ যেমন আছে, তেমনি এই টিকা দ্রুত সবার জন্য সরবরাহ করতে পারার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

টিকার কার্যকারিতা : প্রথমেই আসা যাক টিকার কার্যকারিতার প্রশ্নে। ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজার, বায়োএনটেক ও মডার্নার দাবি, তাদের আবিষ্কৃত টিকা ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর। অর্থাৎ বিশ্বের সবাইকে তাদের ওই টিকা দেওয়া হলেও প্রতি ১০ জনে একজন অরক্ষিত থেকে যেতে পারে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, সবাইকে টিকার আওতায় আনা আপাতত কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু কেন?

সবার কাছে টিকা পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ : এশিয়া, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক টিকা একসঙ্গে মজুদ করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাই নেই। কিন্তু একটি এলাকায় সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে ওই জনগোষ্ঠীর কমপক্ষে ৭০ শতাংশ লোককে টিকার আওতায় আনতে হবে, এমনটা জানান ইম্পেরিয়াল কলেজ অব লন্ডনের সংক্রামক রোগবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আজরা গনি।

চ্যালেঞ্জ আরো আছে। টিকার ব্যাপারে সন্দিহান ও দোদুল্যমান মানুষ রয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার  মতে, বিশ্বস্বাস্থ্যের প্রতি যে ১০টি শীর্ষ হুমকি রয়েছে, সেগুলোর একটি হলো টিকা গ্রহণের ব্যাপারে মানুষের মধ্যকার অনিশ্চয়তা। বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তায় থাকা মানুষের মনে আস্থা সৃষ্টি করে তাদের টিকার আওতায় আনা এবং এর মাধ্যমে শতভাগ হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করার গতি খুব ধীর হবে বলে ধারণা করছেন অধ্যাপক আজরা। কিন্তু সবার জন্য এখনই টিকা সরবরাহ করার কোনো পরিকল্পনা বিশ্বের কোনো সরকারেরই নেই। তবে কাদের জন্য টিকা?

প্রাথমিকভাবে যাদের জন্য টিকা : বিশ্বের গুটিকয়েক দেশ বর্তমানে টিকা হাতে পেয়েছে এবং তা প্রয়োগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় বর্তমানে যারা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা, প্রথমে তাদেরই টিকা দেওয়া হবে।

প্রথম পর্যায়ে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার কৌশল বাস্তবায়ন করা হলে ওই জনগোষ্ঠীর মৃত্যু ঠেকানো যাবে এবং হাসপাতালে চাপ কমবে, সেটা স্বীকার করে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য দপ্তরের সাবেক পরিচালক ডেভিড স্যালিসবারি বলেন, ‘কিন্তু এতে তো সংক্রমণ বন্ধ হবে না।’ সুতরাং শিগগির কভিডমুক্ত বিশ্বের স্বপ্ন দুরাশাই বটে।

সব শেষে অধ্যাপক আজরার আরেকটি আশঙ্কার কথা না বললেই নয়। তাঁর মতে, টিকার মাধ্যমে বৈশ্বিক মহামারির ইতি ঘটানো যাবে, কিন্তু তাতে করোনাভাইরাস নির্মূল হবে না। করোনা থেকে রেহাই পেতে হলে আমাদের নিয়মিত টিকা নিতে হবে। এর মানে, রোগ প্রতিরোধে যেসব টিকা চালু আছে, সেগুলোর তালিকায় যোগ হতে চলেছে আরেকটি টিকা। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা