kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

চীন গণতন্ত্র-স্বাধীনতার বড় হুমকি : যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীন গণতন্ত্র-স্বাধীনতার বড় হুমকি : যুক্তরাষ্ট্র

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য চীনই সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এ মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জন র‌্যাটক্লিফ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা এক নিবন্ধে তিনি বলেছেন, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় তথ্য ও মেধা চুরি করে নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে এবং পরে বাজার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোকেই হটিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারা বিশ্বে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে আধিপত্য বিস্তারে ইচ্ছুক।

র‌্যাটক্লিফের এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং বলেছে, মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধানের বক্তব্যকে ‘সত্যের অপলাপ’ অ্যাখ্যা দিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরকার কিছু লোকের ঠাণ্ডাযুদ্ধের মানসিকতা ও আদর্শিক অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, ‘(র‌্যাটক্লিফ) চীনকে কলঙ্কিত ও হেয় করতে মিথ্যা ও কুৎসার পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছেন। এ জন্য চীনা হুমকির কথাটি বারবার সামনে নিয়ে আসছে। আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র এই নিয়ে আরো একটা মিথ্যার ফুলঝুরি তৈরি করেছে তারা।’

মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কয়েক বছর ধরেই চীনের বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক আরোপের পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপও বাড়িয়েছিল। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষকের।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক র‌্যাটক্লিফ তাঁর নিবন্ধে লিখেছেন, চীন এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রাশিয়ার জায়গায় নিজেদের নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ‘চীন বিশ্বাস করে, তাদের শীর্ষে না রেখে হওয়া বিশ্বব্যবস্থা একটি ঐতিহাসিক স্খলন। তাই তারা বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ও বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতার বিস্তৃতি বদলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে।’

চীনের বিরুদ্ধে ‘চুরি, প্রতিলিপি তৈরি ও প্রতিস্থাপনের’ মাধ্যমে অর্থনৈতিক চরবৃত্তি চালানোরও অভিযোগ তুলেছেন র‌্যাটক্লিফ। প্রতিবছর শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই ৫০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের মেধাস্বত্ব চুরি যায় বলেও দাবি তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়নকে দিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন যেন চীনের প্রতি খানিকটা নমনীয় হয় বেইজিং সে চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে, বলেছেন এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

র‌্যাটক্লিফের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং এফবিআইপ্রধান ক্রিস্টোফার রেও চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন মেধাস্বত্ব চুরি ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে বেইজিংয়ের হস্তক্ষেপচেষ্টার অভিযোগ করেছিলেন। সূত্র : রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা