kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

লক্ষ্যমাত্রা এখনো নাগালের মধ্যেই

বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ে সিএটির গবেষণা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লক্ষ্যমাত্রা এখনো নাগালের মধ্যেই

ছবি: ইন্টারনেট

প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা এখনো অর্জন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। কার্বন নিঃসরণ নিয়ে চীনসহ কয়েকটি দেশের প্রতিশ্রুতি ও যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নতুন কর্মপরিকল্পনার কারণে এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষকরা বলছেন, এসব প্রতিশ্রুতি কিংবা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে চলতি শতকের শেষ দিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২.১ সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখা সম্ভব হবে। এর আগে গবেষকদের আশঙ্কা ছিল, তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই হার তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।

সাম্প্রতিক এই গবেষণাটি করেছেন ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকার’ (সিএটি)-এর গবেষকরা। তাঁরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্বন নিঃসরণ নিয়ে বিভিন্ন দেশের কর্মকাণ্ডে নজর রাখছেন।

২০০৯ সালে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বনেতারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। ওই সময় ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকার’-এর গবেষকরা আশঙ্কা করেন, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সাড়ে ৩ শতাংশে গিয়েও ঠেকতে পারে। কিন্তু ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির লাগাম টানার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন দেশ কার্বন নিঃসরণে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়। গত সেপ্টেম্বরে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকার’-এর গবেষকরা জানান, যেভাবে সব কিছু চলছে, তাতে চলতি শতাব্দীর শেষ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়াতে পারে, যা প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রার (দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস) চেয়েও বেশি। তবে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকার’-এর গবেষকরা এখন এসে জানালেন, এই হার ২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব।

কারণ হিসেবে গবেষকরা বলছেন, গত তিন মাসে জলবায়ু ইস্যুতে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং জাতিসংঘে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁদের দেশে ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। আর ২০৩০ সালের পর চীনে কার্বন নিঃসরণের হার কমতে শুরু করবে।

সিএটি গবেষকরা বলছেন, চীনের এই প্রতিশ্রুতি ঠিক থাকলে চলতি শতকের শেষ দিকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্বির হার দশমিক ২ থেকে দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাবে। একই রকমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। তবে এই দুটি দেশ চীনের ১০ বছর আগেই (২০৫০ সালের মধ্যে) কার্বন নিঃসরণের হার শূন্যের কোঠায় আনার ঘোষণা দিয়েছে। শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার কাছ থেকেও।

প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বাইডেনের বিজয়ী হওয়ায় নতুন করে সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা। কারণ বাইডেন এরই মধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেও কার্বন নিঃসরণের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে।

সার্বিক পরিস্থিতি ইতিবাচক হলেও এখনো অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে মনে করেন সিএটি গবেষক বিল হেয়ার। তিনি বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি এসেছে ঠিকই, কিন্তু এখনো অনেক দেশ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করতে পারেনি। বড় দেশগুলোর উচিত হবে লক্ষ্য অর্জনের জন্য দ্রুত পরিকল্পনা হাতে নেওয়া এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করা।’ সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা