kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আমাজনের আদিবাসী নেত্রী গোল্ডম্যান জিতলেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমাজনের আদিবাসী নেত্রী গোল্ডম্যান জিতলেন

আমাজনের পাঁচ লাখ একর বনভূমির তেল উত্তোলন বন্ধ করতে পারার স্বীকৃতি হিসেবে সম্মানজনক গোল্ডম্যান পরিবেশ পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ইকুয়েডরের আদিবাসী নেত্রী নেমন্তে নেনকুইমো। ‘সবুজ নোবেল পুরস্কার’ হিসেবে পরিচিত এ পুরস্কার প্রতিবছর বিশ্বের ছয়টি মহাদেশের ছয়জন তৃণমূল পর্যায়ের অধিকারকর্মীকে দেওয়া হয়। এ বছর ঘানা, ফ্রান্স, মিয়ানমার, বাহামাস ও মেক্সিকোর পাঁচ অধিকারকর্মীর সঙ্গে নেনকুইমো এ পুরস্কার জিতেছেন। তবে সরকারের সঙ্গে আদালতে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনা আদিবাসী এই নেত্রীর পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি আলাদা করে সবার নজর কেড়েছে।

নেনকুইমো ইকুয়েডরের ওয়াওরানি আদিবাসী গোষ্ঠীর নেত্রী। সংখ্যায় পাঁচ হাজারের মতো এ গোষ্ঠী মূলত নারীপ্রধান। তবে নেনকুইমোই প্রথম নারী, যিনি ওয়াওরানি অব পাস্তাজা রাজ্যের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। আমাজনের যে অংশে তিনি বেড়ে উঠেছেন, সেখানে আগে কখনো তেল উত্তোলনের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করা হতো না। নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্যেই দিন কাটত তাঁদের। কিন্তু তাঁর বয়স যখন ১২ তখন এক খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তেল উত্তোলনের বিষয়টি চোখে পড়ে তাঁর। মেশিনের বিকট শব্দ, আগুন আর ধোঁয়া দেখে শুরু থেকেই তেল নিষ্কাশনের ক্ষতিকর দিকগুলো চোখে পড়ে তাঁর। এর বছর বিশেক পর ২০১৮ সালে ইকুয়েডর সরকার যখন ১৬টি নতুন তেলক্ষেত্রের জন্য আমাজনের ৭০ লাখ একর বনভূমি বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যান নেনকুইমো। ‘আমাদের ভূমি বিক্রি হবে না’—স্লোগানে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন করে তিনি ওয়াওরানি গোষ্ঠীকে সংগঠিত করতে শুরু করেন। এ প্রচারে অংশ নিয়ে বনভূমি বরাদ্দের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে চার লাখ মানুষ স্বাক্ষর করে। একপর্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামতে হয় ইকুয়েডর সরকারকে। কিন্তু শেষমেশ ২০১৯ সালে আদালতের রায় নেনকুইমোদের পক্ষেই আসে। পুরস্কার পাওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে নেনকুইমো বলেন, ‘আশা করি, এ পুরস্কার আমাদের ও আমাদের লড়াইকে আরো দৃশ্যমান করবে এবং আমরা যে বিশ্বের কল্যাণে কাজ করছি, সে ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করবে।’ সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য