kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরুদ্ধার কঠিন হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরুদ্ধার কঠিন হবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সি গ্রহণের পর ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করবেন—এমন পরিকল্পনা করে রেখেছেন জো বাইডেন। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন খুব একটা সহজ হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, ইরানের শীর্ষস্থানীয় পরমাণু বিজ্ঞানী হত্যাকাণ্ড ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলবে।

কোনো ধরনের চুক্তির মধ্য দিয়ে নয়, বরং ‘সর্বোচ্চ চাপ’ সৃষ্টির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ব্যাহত করার পথ ধরেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই নীতির অংশ হিসেবে তিনি জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) শীর্ষক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ পরমাণু শক্তিধর ছয়টি দেশ ইরানের সঙ্গে জেসিপিওএ সই করেছিল।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে আগামী ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের হাত থেকে ক্ষমতা বুঝে নিতে চলেছেন বাইডেন। এই ডেমোক্র্যাট নেতা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্সি গ্রহণের পর তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে মন দেবেন। তাঁর সেই আশায় গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছে ইরানের জ্যেষ্ঠ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ-মাহাবাদির মৃত্যু। গত শুক্রবার চোরাগোপ্তা হামলায় নিহত হন তিনি। ইরানের অভিযোগ, ঘনিষ্ঠ মার্কিন মিত্র ইসরায়েল এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বিশ্লেষকরাও ইসরায়েলের দিকেই আঙুল তুলছেন।

ফাখরিজাদেহর মৃত্যুর ঘটনায় ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়, তাহলে ইরানের সঙ্গে ‘আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কতটা খোলামেলা হবে, তা তো বোঝাই যাচ্ছে’—এমন মন্তব্য করেন ওয়াশিংটন ডিসির বিশ্লেষক সংস্থা কুইন্সি ইনস্টিটিউটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ট্রিটা পারসি। তবে ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী পরিস্থিতি যে পথেই এগোক, সেটা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুকূলেই যাবে বলে মনে করেন পারসি। তাঁর মতে, ইরান প্রতিশোধের পথে এগোলে নেতানিয়াহু সহজেই মার্কিন প্রশাসনকে ইরানবিরোধী যুদ্ধে টেনে আনতে পারবেন। ইরান ধৈর্যের পরিচয় দিলেও লাভ নেই। সেই সুযোগে ইসরায়েল পরিস্থিতি এমন জটিল করে তুলবে যে ইরানের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতি আরো কঠিন হয়ে উঠবে।

পারসি আরো বলেন, ‘নেতানিয়াহুর প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এটা এমন এক মুহূর্ত, যখন তাঁর জন্য বাইডেনকে ধরাশায়ী করা সম্ভব। কিছু বিষয় বিবেচনায় নিলে বলতে হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইডেনই আসল টার্গেট।’

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থার মধ্যে ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ড ঘটল। তাঁর অভিমতের ব্যাখ্যায় দিন দশেক পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা যায়, চলতি মাসের মাঝামাঝি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের নাতানজ এলাকায় পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে হামলা চালানোর বিষয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ খবর চাউর হওয়ার পর ইরান হুঁশিয়ারি দেয়, নাতানজে হামলা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। ইরানের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ার জন্য নর্থ ডাকোটা থেকে মধ্যপ্রাচ্যে দূরপাল্লার বোমারু বিমান পাঠায়।

মিলার বলেন, ‘এ রকম একটা উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থা এবং বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণ—এ দুয়ের মাঝখানের সময়ে ইরান খুব টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’ ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য এটাই যে মোক্ষম সময়, সেই হিসাব সূক্ষ্মভাবেই করতে পেরেছে ইসরায়েল। এ রকম আরো ঘটনা ঘটতে চলেছে আর এতে আগামী কয়েক মাসে উত্তেজনা বেশ বাড়বে—এমন আশঙ্কার কথা জানান মিলার। সূত্র : আলজাজিরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা