kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পরমাণুবিজ্ঞানী ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ড

ঘুরেফিরে আসছে ইসরায়েলের নাম

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুরেফিরে আসছে ইসরায়েলের নাম

ইরানের পরমাণুবিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহকে হত্যার ঘটনায় দেশটিতে নতুন করে উসকে উঠেছে মার্কিনবিরোধিতা। ইরানের বাসিজ শীর্ষক এক আধাসামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণার্থীরা গতকাল রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হবু প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছবিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ছবি : এএফপি

ইরানের শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ নিহত হওয়ার ঘটনায় ঘুরেফিরে ইসরায়েলের নাম সামনে আসছে। হামলার পর থেকেই ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে ইরান। একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা নিশ্চিত করেছেন, হামলার নেপথ্যে ইসরায়েলই ছিল। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে সৌদি যুবরাজ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গোপন বৈঠকের সঙ্গেও এই হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

কারো কারো মতে, ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ড ও মার্কিন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানির মৃত্যু একই সূত্রে গাঁথা। কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, ইরানকে পুরোদমে যুদ্ধে জড়ানোর উসকানি দিতেই ফাখরিজাদেহকে হত্যা করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় আবসার্দ শহরে চোরাগোপ্তা হামলায় নিহত হন ৫৯ বছর বয়সী ফাখরিজাদেহ। ইসরায়েলের চোখে তিনি ছিলেন ইরানের ‘পরমাণু কর্মসূচির জনক’। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক পশ্চিমা দেশও ফাখরিজাদেহকে ইরানের গোপন পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। ফাখরিজাদেহ ইরানের ‘আমেদ’ (আশা) প্রকল্পের প্রধান ছিলেন। ইসরায়েল ও পশ্চিমাদের অভিযোগ, এই প্রকল্প ইরান হাতে নিয়েছে পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য। তবে ফাখরিজাদেহই প্রথম নন, ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অন্তত চার বিজ্ঞানী হত্যার শিকার হন। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডেই ইসরায়েল জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এবারও ঘুরেফিরে ইসরায়েলের নাম আসছে এবং এই অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তিও রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দুই মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইসরায়েল জড়িত। তবে ওই তিন কর্মকর্তা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, ‘হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলের জড়িত থাকার জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে।’ দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির হাতামি বলেছেন, এর আগেও একাধিকবার ফাখরিজাদেহকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড ‘পুরোপুরি সম্পৃক্ত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সদস্য এলি জারানমায়েহ মনে করেন, ‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করা এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নয়। বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করতেই ফাখরিজাদেহকে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগেই সৌদি যুবরাজ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গোপন বৈঠক করেছেন। ফলে এই সন্দেহ তৈরি হতেই পারে যে ইরানকে উসকানি দিতে এবং জো বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতিকে বেকায়দায় ফেলতে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।’

জারানমায়েহর মতো সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হোসেই দেহগান। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার আগে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানকে পুরোদমে যুদ্ধে লিপ্ত করার চেষ্টা করছেন।’

তবে ইরান আভাস দিয়েছে, এই ফাঁদে পা দিয়ে তারা যুদ্ধে জড়াবে না। প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গতকাল বলেছেন, ‘ইরান অবশ্যই প্রতিশোধ নেবে; তবে সেটা নিজেদের পছন্দমতো কোনো সময়ে।’ প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা